দীর্ঘদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করলেও নির্বাচনী ময়দানে এখনকার সমীকরণ যে বদলে গেছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলল ময়মনসিংহে। জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক সমালোচনার জবাবে কড়া পাল্টা আক্রমণ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি যদি এতই খারাপ বা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে থাকা জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসেননি?
তারেক রহমান আক্ষেপের সুরে বলেন, “আপনারা পত্রিকায় দেখছেন, একটি রাজনৈতিক দল এখন পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের মুখের ভাষায় বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে। তারা দাবি করছে বিএনপি নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমার প্রশ্ন— সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় তো আপনাদেরও দুজন সদস্য ছিলেন। তখন কেন বেরিয়ে আসেননি? আসলে তারা জানতেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কত কঠোরভাবে দুর্নীতি দমন করছিলেন।”
বিকেল ৪টা ৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। এ সময় ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো সার্কিট হাউস মাঠ। ময়মনসিংহের তারাকান্দাকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি জানান স্থানীয় নেতারা। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের মঞ্চে ডেকে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
বিগত দিনের পরিসংখ্যান টেনে তারেক রহমান বলেন, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসনের আমলেই দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। অথচ ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশ সেই করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে শুরু করেছিল। তিনি দাবি করেন, আজ যারা বিএনপিকে দোষারোপ করছেন, তারা মূলত মিথ্যাচারের রাজনীতি করছেন। সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের মন্ত্রিত্বে বহাল থাকাটাই প্রমাণ করে তৎকালীন সরকার কতটা স্বচ্ছ ছিল।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন কেবল ভোট দিলেই হবে না, কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোট দেওয়ার পর ফলাফল কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিতে হবে, যাতে কেউ জনরায় লুট করতে না পারে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি এক নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “ভোটের পর আপনাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে খাল খনন কর্মসূচিতে। সেদিন সবাই কোদাল নিয়ে আসবেন, আপনাদের সঙ্গে আমিও থাকব।”
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনই তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই। তাকেই আমরা আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।” ময়মনসিংহের এই বিভাগীয় সমাবেশে প্রার্থীদের স্লোগান ছিল— ‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’।
মাঠে উপস্থিত থাকা মধ্যবয়সী অনেক নেতাকর্মী স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই একই মাঠে তারা একসময় বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুনেছিলেন। আজ তার ছেলের নেতৃত্বে দল পুনর্গঠিত হওয়ায় তারা নতুন করে উজ্জীবিত। সমাবেশ শেষে তারেক রহমানের গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

