ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ও ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ততা এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণেই রাজধানীর বুকে এমন ‘বর্বরোচিত’ সন্ত্রাসী হামলা সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েম এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, প্রশাসন বর্তমানে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবর্তে কার্যত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। এই পক্ষপাতিত্বই সন্ত্রাসীদের সাহস জোগাচ্ছে।
পোস্টে সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “নারী জামায়াত কর্মীদের ওপর আক্রমণ, হিজাব নিয়ে উসকানিমূলক আচরণ এবং প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা প্রমাণ করে যে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পুরো গণতান্ত্রিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার বিস্তারিত তুলে ধরে ভিপি সাদিক জানান, আজ ফকিরাপুলে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা পরিচালিত এই হামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের অন্তত ১৩ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই হামলা কেবল কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের ওপর নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক উত্তরণের ওপর এক বড় ধরণের আঘাত।
সাদিক কায়েম তাঁর বার্তায় আরও বলেন, “নির্বাচনে হার-জিত বড় কথা নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। অথচ একটি দল অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, গণমাধ্যমের একাংশও বর্তমানে একপাক্ষিক ভূমিকা পালন করে এই সংঘাতময় রাজনীতিকে পরোক্ষভাবে উসকে দিচ্ছে।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই ছাত্রনেতা। আসন্ন নির্বাচনে ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কেবল গণমানুষের প্রতিরোধের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
ঢাকা-৮ আসনের এই সংঘাতের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই উত্তেজনা অন্যান্য আসনেও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

