নির্বাচনের মাঠ যত তপ্ত হচ্ছে, ততই চড়ছে বাদানুবাদের সুর। ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি ‘পাল্টা আঘাতের’ হুঁশিয়ারি দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার বিকেলে ফকিরাপুলে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “যদি আমাদের প্রার্থীদের ওপর আঘাত হয়, তবে এখন থেকে পাল্টা আঘাতও আসবে।”
এদিন সকালে ঢাকা-৮ আসনের হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে এক আমন্ত্রিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তাঁর সমর্থকদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ ওঠে। নাহিদ ইসলাম বলেন, কেবল ঢাকা-৮ নয়, এর আগে ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপরও একই কায়দায় হামলা হয়েছে। এমনকি ১১ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপরও বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হচ্ছে।
পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্লিপ্ততায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “একদলের প্রার্থীদের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হলে অন্যদলের প্রার্থীদের ওপরেও ডিম পড়বে। আমরা সংঘাত চাই না, কিন্তু প্রশাসন নীরব থাকলে আমাদের যা করণীয় আমরা তাই করব।”
সরাসরি বিএনপির নাম না নিলেও দলটির ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন নাহিদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠ থেকে সরাতে চান, তবে আপনাদের সঙ্গে তাঁদের পার্থক্য কী? আওয়ামী লীগের ভোট পেতে আপনারা মঞ্চে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন, কিন্তু মনে রাখবেন গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ আর কোনো দাদাগিরি বা সন্ত্রাস মেনে নেবে না।”
অতীতের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সালে আপনারা মাঠে নামতে পারেননি, ২৮ অক্টোবর তিন মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি। তখন আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। অথচ আজ আপনারা সমালোচনা সইতে পারছেন না। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বেয়াদব বলছেন? আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দেবে—কে বেয়াদব আর কে গ্যাংস্টার।”
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁদের ওপর হামলা হয়েছে। নারী সদস্যদের ওপর বরফ নিক্ষেপ করায় একজনের মাথায় চারটি সেলাই লেগেছে। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তিনি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ভাগনে আদিত্যের নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া ছাত্রদলের সাবেক নেতা আসাদুজ্জামান মাসুদ, শাহিন উদ্দিন মল্লিক ও শরিফ সরাসরি হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ইসি নির্দিষ্ট একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হিসেবে অনুমোদন দিয়ে কমিশন দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই হামলার ঘটনার পর ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

