পশ্চিমা দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করেই নিজেদের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে ভারত ও রাশিয়া। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেছে মস্কো ও নয়াদিল্লি। সোমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার।
ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিনয় কুমার জানান, গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার বৈঠকের পর এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে যখন আমরা এই চুক্তির প্রস্তাব দেই, তিনি তাতে পূর্ণ সম্মতি জানান। সরকারি পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এখন তা বাস্তবায়নের কাজও দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে।”
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল রেকর্ড ৬ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার। তবে এর সিংহভাগই ছিল রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের সস্তায় কেনা অপরিশোধিত তেল। নতুন চুক্তির আওতায় জ্বালানি তেলের বাইরেও কৃষি পণ্য, তথ্য-প্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প এবং প্রতিরক্ষা খাতের নতুন নতুন উপাদান যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই বিশাল অংকের বাণিজ্য সম্পন্ন করতে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব মুদ্রা ‘রুপি ও রুবল’ ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার উল্লেখ করেন, গত দুই বছর ধরে সফলভাবে রুপি-রুবল পদ্ধতিতে লেনদেন চলছে, যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ভয় কাটিয়ে দুই দেশই নিরবচ্ছিন্নভাবে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারবে।
গত মাসে প্রেসিডেন্ট পুতিনের নয়াদিল্লি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি ঘোষণা করেছিলেন, দুই দেশের মধ্যকার মিত্রতা কেবল রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার ওপর মার্কিন ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ভারতের এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) পথে এগোলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ১০ হাজার কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া সম্ভব বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

