ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ৪টা ৩ মিনিট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠের জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর আগমনে মুহূর্তেই উত্তাল হয়ে ওঠে জনসমুদ্র। হাজারো নেতাকর্মীর স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো শহর। এটি নির্বাচনী প্রচারণার পঞ্চম দিনে ঢাকার বাইরে তাঁর তৃতীয় বড় সমাবেশ।
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর আড়াইটায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কিছুটা বিলম্বে মঞ্চে পৌঁছান তারেক রহমান। তবে মূল মঞ্চে ওঠার আগে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। জনসভাস্থলের পাশে বিশেষভাবে আসন গ্রহণ করা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের কাছে যান তিনি। সেখানে তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ময়মনসিংহ বিভাগের ১১টি আসনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি নিয়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম, ঠিক তখনই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন নিজেদের মধ্যে বিভেদ বা দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সময় নয়। দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন আর ধানের শীষের প্রতীকে ছেয়ে যায় পুরো সার্কিট হাউস এলাকা। তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ময়মনসিংহের আটটি আসনে যে বিদ্রোহী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তারেক রহমানের এই সশরীরে উপস্থিতি এবং ঐক্যের ডাক সেই সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তিনি মূলত সাধারণ মানুষের আবেগ ও দলের আদর্শিক লড়াইকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা করেছেন।
ময়মনসিংহের এই কর্মসূচি শেষ করে আজ বিকেলেই তাঁর গাজীপুর ও ঢাকার উত্তরায় পৃথক দুটি সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার এই ব্যস্ততম সময়ে তারেক রহমানের প্রতিটি সফরই বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য এক বিশেষ বার্তা বহন করছে।

