আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক বিশাল গণসংযোগ ও বিআইডব্লিউটিসি শ্রমিক দলের মতবিনিময় সভায় তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষায় এবার জনগণকে সশরীরে এগিয়ে আসতে হবে।”
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সভায় মির্জা আব্বাস বিএনপির বিরুদ্ধে চলমান নানামুখী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “বিএনপি আজ জনগণের শক্তিতে বলীয়ান। আমাদের এই শক্তিকে ভয় পেয়ে পরাজিত শক্তি এবং কিছু সুবিধাভোগী দল নতুন করে প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। গত ১৭ বছর এই দলের ৫ হাজার নেতাকর্মীকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে, তবুও কেউ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। যখনই নির্বাচন সামনে আসে, তখনই বিএনপিকে ঠেকাতে নানামুখী নীল নকশা শুরু হয়। কিন্তু এবার জনগণ আর কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না।”
দলের নেতৃত্ব ও ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা মহলের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন আর বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে একে একটি শক্তিশালী স্তম্ভে পরিণত করেছেন। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল আরও সুসংগঠিত। আমাদের দলে কখনো নেতৃত্বের শূন্যতা ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না। জিয়া পরিবার সবসময় দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গিত। দেশ ও জাতির কল্যাণে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে আমাদের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
এদিন বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ বার্তা দেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি কেবল চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “চাকরিই জীবনের একমাত্র সমাধান নয়। আমি সম্প্রতি একটি ফ্রিল্যান্সিং কেন্দ্রে গিয়ে তরুণদের যে সৃজনশীলতা দেখেছি, তাতে আমি মুগ্ধ। বাংলাদেশে এখন ফ্রিল্যান্সিং করে খুব ভালো আয় করা সম্ভব। তরুণদের উচিত নিজেকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যেন তারা ভবিষ্যতে আরও ১০০ জনকে চাকরির সুযোগ করে দিতে পারে।”
পেশা পরিবর্তনের প্রবণতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস আরও বলেন, “যখন দেখি একজন মেধাবী ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার ব্যাংকে চাকরি করতে চান, তখন খুব কষ্ট হয়। দেশের শিক্ষার প্রকৃত সুফল পেতে হলে ইঞ্জিনিয়ারকে জাতির প্রয়োজনে আর ডাক্তারকে রোগীর সেবায় নিয়োজিত থাকতে হবে। দক্ষ ও যোগ্য লোকরাই আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়বে।”
শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় পদযাত্রার সময় মির্জা আব্বাস সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন। বিআইডব্লিউটিসি শ্রমিক দলের নেতাদের সাথে মতবিনিময়ের সময় তিনি শ্রমিক অধিকার রক্ষায় বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই গণসংযোগে অংশগ্রহণ করেন।

