ডিজিটাল দুনিয়ার আশীর্বাদ এখন শোবিজ তারকাদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোংরা বুলিং আর কুরুচিপূর্ণ ট্রোলিং যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এতদিন এসব মুখ বুজে সহ্য করলেও এবার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে বিকৃত ভিডিও তৈরি এবং চরিত্র হননের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এবার সরাসরি আইনি যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বুবলী তার দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় বুলিং যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা এখন আর কেবল মজার ছলে নেই, এটি রীতিমতো অসহনীয় ও অপরাধমূলক। সাংবাদিক থেকে শুরু করে আমার সহকর্মীরাও বারবার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবস্থা নিতে। এতদিন ভেবেছিলাম এড়িয়ে গেলে হয়তো থেমে যাবে, কিন্তু আমার নীরবতাকে অনেকে দুর্বলতা ভেবে আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।”
ফেসবুক ও ইউটিউবে ভিউ আর ডলার আয়ের অসুস্থ প্রতিযোগিতাকেই এই নোংরামির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বুবলী। তার মতে, নেতিবাচক খবর বা গুজব ছড়ালে মানুষের কৌতূহল বেশি থাকে, আর সেই সুযোগটাই নিচ্ছে একশ্রেণির অসাধু কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এখন ভিউ মানেই ব্যবসা। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আজেবাজে ভিডিও বানিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা কেবল আমার নয়, যে কোনো শিল্পীর সম্মানে আঘাত হানছে।”
তবে বুবলী সবচেয়ে বেশি ব্যথিত হয়েছেন নারীদের আচরণে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “সবচেয়ে অবাক লাগে যখন দেখি একজন নারী হয়ে অন্য একজন নারীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ করছেন। বর্তমানে মেয়েরাই মেয়েদের সবচেয়ে বেশি ট্রোল করছে, যা আমাদের সমাজের এক অন্ধকার দিক ফুটে তুলছে।” নারীত্বের এই অবমাননা তাকে মানসিকভাবে বেশ আঘাত করেছে বলে জানান তিনি।
বিদেশে বসে যারা বাংলাদেশের শিল্পীদের নিয়ে নোংরা অপপ্রচার চালান, তাদের প্রতিও কড়া বার্তা দিয়েছেন এই নায়িকা। বুবলী মনে করেন, দেশের সম্পদ বা তারকাদের হেয় প্রতিপন্ন করার অর্থ হলো বহির্বিশ্বে দেশকে ছোট করা। এটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং দেশের মর্যাদার প্রশ্ন। তাই বাংলাদেশের প্রচলিত সাইবার ক্রাইম আইনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে খুব শীঘ্রই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি।
বুবলীর এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন তার ভক্ত ও সহকর্মীরা। তারা মনে করছেন, যদি শুরুতেই এসব রুখে দেওয়া না যায়, তবে শোবিজ অঙ্গনের সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। সাইবার অপরাধীরা যেন পার না পায়, সেজন্য প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন এই চিত্রনায়িকা। এখন দেখার বিষয়, আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ‘ডিজিটাল সন্ত্রাস’ কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

