ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, কাউকে সংসদীয় আসন বা ‘সিট’ দেওয়ার মালিক কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী নয়। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগ ও শাহজাহানপুর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি জোরালোভাবে বলেন, “আসন দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ ও জনগণ। জনগণের ঊর্ধ্বে গিয়ে কথা বলা স্রেফ স্বেচ্ছাচারিতা।”
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এদিন তিনি শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি মাঠে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং পরে মালিবাগের বিভিন্ন অলিগলিতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান। গণসংযোগকালে তিনি বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
এক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মির্জা আব্বাস বলেন, “শুনেছি কেউ কেউ বলছেন তারা আমাদের একটি সিটও দেবেন না। আমার প্রশ্ন— তারা সিট দেওয়ার কে? তারা এই শক্তি কোথায় পায়? এর মানে কি পেছনে কোনো বিশেষ শক্তি কাজ করছে যারা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর স্বপ্ন দেখছে?” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ডাল মে কুছ কালা হ্যায়” মনে হলেও দেশের সচেতন জনগণ ১৯৭১ ও ২০২৪-এর মতো সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ও বিএনপিকে জড়িয়ে বিভিন্ন ভিডিও ও ডকুমেন্টারি প্রচারের বিষয়ে মির্জা আব্বাস তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে ভুয়া ডকুমেন্টারি বানানো হচ্ছে এবং বট বাহিনী দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের নোংরামি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।” তিনি ভোটারদের এসব ডিজিটাল অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিগত ১৭ বছরে তার নির্বাচনী এলাকা (ঢাকা-৮) ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে দাবি করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, “মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস— এই তিনটি ব্যাধি শাহজাহানপুর-মালিবাগ-মতিঝিল এলাকাকে গ্রাস করেছে। আমার প্রথম লক্ষ্য হবে এলাকাকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।” ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এই এলাকার মানুষের যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছিলেন, এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াত আমিরের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রস্তাবনা নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “জামায়াত কি বলছে তা জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে বিএনপি মানুষের কল্যাণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে আছে। আমরা বেকার ভাতা নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী কর্মসংস্থান এবং কৃষি ও নারী উন্নয়নে বিশ্বাসী।”
সবশেষে তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

