টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা যেন থামছেই না। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) যখন টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দিয়েছিল, তখন অনেকের ধারণা ছিল এবার হয়তো বিশ্ব আসরে দেখা যাবে না চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের।
তবে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার পাল্টা হুঁশিয়ারির পর আজ (রোববার) বিকেলে হুট করেই ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। কিন্তু দল দিলেও পাকিস্তান কি শেষ পর্যন্ত ভারতে খেলতে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে এক রহস্যময় ‘বোমা’ ফাটালেন নির্বাচক কমিটির সদস্য আকিভ জাভেদ।
আইসিসি যখন ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির অজুহাত তোলা বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে, তখন পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ না খেললে পাকিস্তানও এই বিশ্বকাপে অংশ নেবে না।
কিন্তু আইসিসি সাফ জানিয়ে দেয়, টুর্নামেন্ট বয়কট করলে পাকিস্তানকে দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞাসহ কঠিন আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হবে। এই হুঁশিয়ারির পরপরই আজ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে দল ঘোষণা করেন নির্বাচকরা।
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর ও নির্বাচক আকিভ জাভেদ, অধিনায়ক সালমান আগা এবং সাদা বলের প্রধান কোচ মাইকেল হেসন উপস্থিত ছিলেন। স্কোয়াড ঘোষণার পর আকিভ জাভেদ যা বললেন, তাতে বোঝা গেল বয়কটের শঙ্কা এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি।
তিনি বলেন, “আমাদের কাজ দল নির্বাচন করা, আমরা সময়সীমার ঠিক আগে দল ঘোষণা করেছি। তবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা না করা আমাদের হাতে নেই। সরকার যদি অনুমতি দেয় তবেই দল যাবে। চেয়ারম্যানও একই কথা বলেছেন, আমরা সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান দল ঘোষণা করলেও আইসিসিকে এক প্রকার চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। তবে ভারত-পাকিস্তান লড়াই নিয়ে ভক্তদের জন্য একটি স্বস্তির খবর হলো, পিসিবি, বিসিসিআই ও আইসিসির মধ্যে গত বছর একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
সেই চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সব ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে এবং সেখানেই হাই-ভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি আয়োজিত হবে।
পাকিস্তানকে নিয়ে আইসিসি এবার শুরু থেকেই বেশ আক্রমণাত্মক অবস্থানে ছিল। বাংলাদেশের বিদায়ের পর আইসিসি কোনোভাবেই চাচ্ছিল না টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় আকর্ষণ পাকিস্তানকে হারাতে। তবে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ইস্যু টেনে পাকিস্তান যদি শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে, তবে স্কটল্যান্ডের মতো অন্য কোনো দলকে বিকল্প হিসেবে ভাবার প্রস্তুতিও আইসিসি নিয়ে রেখেছে।
সব মিলিয়ে, দল ঘোষণা করে পাকিস্তান ক্রিকেটের মাঠে ফেরার প্রাথমিক প্রস্তুতি দেখালেও, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক লড়াই এখনো তুঙ্গে। মহসিন নাকভির ‘বয়কট’ হুমকি কি কেবলই চাপ সৃষ্টির কৌশল ছিল, নাকি সরকার সত্যিই কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেবে—তার উত্তর পেতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে ক্রিকেট বিশ্বকে।

