আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির ময়দান এখন সরগরম। শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার এক সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, তাদের ১০ দলীয় জোটের প্রতি জনগণের বিপুল সমর্থন দেখে একটি বড় রাজনৈতিক দল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ভয় পেয়ে তারা এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভাটারা থানার বাঁশতলা সড়কে আয়োজিত এই সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা মাঠের গণজোয়ার স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। আর এটি দেখেই একটি পক্ষ প্রমাদ গুনছে। তারা ভাবছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করা যাবে। কিন্তু এদেশের মানুষ এখন সচেতন।” নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এক বিশাল গণমিছিলের আগে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা-১১ আসনের (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা) সমস্যাগুলো তুলে ধরে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে যানজট, চাঁদাবাজি আর ভূমিদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, “ঢাকা-১১ আসনে কোনো চাঁদাবাজ বা ভূমিদস্যুর স্থান হবে না। আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে এই এলাকাকে সকল প্রকার সন্ত্রাসী ও দখলদারমুক্ত করব।”
ভোটকেন্দ্র দখলের আশঙ্কার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত কঠোর বার্তা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট পেপারে সিল মারার পাঁয়তারা করছেন, তারা যেন সেই দুঃস্বপ্ন ভুলে যান। আমরা রাজপথে রক্ত দিয়েছি, বন্দুকের গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছি। কেন্দ্র পাহারা দিতেও আমরা জানি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র জনতা পাহারা দেবে এবং বিজয় ছিনিয়ে না আনা পর্যন্ত কেউ বাড়ি ফিরবে না।”
সমাবেশে তিনি জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই দেশ কোনো এক ফ্যাসিবাদকে বিদায় করে অন্য কোনো ফ্যাসিবাদের ফেরার জন্য স্বাধীন হয়নি। ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছেন। সেই শহীদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় এবারের নির্বাচনে এনসিপি মনোনীত প্রতীক ‘শাপলা কলি’ ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, এবারের ভোট কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং এটি পরিবারতন্ত্র, বৈষম্য আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার লড়াই। তিনি সারা দেশে জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার পাশাপাশি পরিকল্পিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ারও অনুরোধ জানান।
বক্তব্য শেষে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন এবং ভোটের দিন সাধারণ ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে নিয়ে আসার নির্দেশনা দেন। সমাবেশ শেষে তার নেতৃত্বে একটি বিশাল গণমিছিল ভাটারা এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

