কারাগারের চার দেয়াল সাধারণত অপরাধের অনুশোচনা আর কঠোর শাস্তির সাক্ষী হয়ে থাকে। কিন্তু ভারতের রাজস্থানের একটি সংশোধনাগারে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই খুনি খুঁজে পেয়েছেন জীবনের নতুন মানে—প্রেম। আর সেই প্রেমকে পরিণয়ে রূপ দিতে এবার ১৫ দিনের জন্য কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন তারা।
বার্তা সংস্থা পিটিআই শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে এনেছে। রাজস্থানের সানগানার ওপেন জেলে থাকাকালীন ৩১ বছর বয়সী প্রিয়া শেঠ এবং ২৯ বছর বয়সী হনুমান প্রসাদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত এক বছর ধরে চলা এই ভালোবাসার টানেই তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজস্থান হাইকোর্ট মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের সাময়িক জামিন মঞ্জুর করেছেন।
বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাওয়া এই কনের অপরাধের ইতিহাস বেশ হাড়হিম করা। ২০২৩ সালে জয়পুরে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন প্রিয়া শেঠ। পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েও না পেয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে ওই ব্যবসায়ীকে হত্যা করে মরদেহ স্যুটকেসবন্দি করেছিলেন তিনি। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড তখন গোটা ভারতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
অন্যদিকে, বর হনুমান প্রসাদের অপরাধের খতিয়ানও কম দীর্ঘ নয়। ২০১৭ সালে এক নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ওই নারীর স্বামী, তিন সন্তান এবং এক ভাতিজাসহ মোট পাঁচজনকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এমন দুটি অন্ধকার জীবনের মিলনের খবর এখন রাজস্থানের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজস্থানের ‘ওপেন জেল’ বা উন্মুক্ত কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী, বন্দিদের দিনের বেলা জীবিকার তাগিদে বাইরে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং সন্ধ্যায় তাদের আবার সেলে ফিরে আসতে হয়। এই ব্যবস্থার সুযোগেই প্রিয়া ও হনুমানের মধ্যে যোগাযোগ এবং পরবর্তীতে গভীর প্রণয় গড়ে ওঠে। গত বুধবার তারা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারতে কারাগার থেকে সাময়িকভাবে বেরিয়ে এসেছেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রিয়ার নিজ শহর বারোদামোতে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। ১৫ দিনের এই প্যারোল শেষে দম্পতিকে পুনরায় তাদের কারাজীবনে ফিরে যেতে হবে। অপরাধ জগতের দুই কুখ্যাত চরিত্রের এই অদ্ভুত প্রেমকাহিনী আইন ও মানবিকতার এক বিরল সমীকরণ তৈরি করেছে।

