মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের আকাশে তখন গোধূলির আভা। হাজারো মানুষের গগনবিদারী চিৎকার আর উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আকাশ চিরে শব্দ ভেসে এল— একটি হেলিকপ্টার ধীরলয়ে নেমে আসছে স্টেডিয়ামের ঠিক মাঝবরাবর। বিপিএলের ইতিহাসে অন্যতম রোমাঞ্চকর এক মুহূর্তের সাক্ষী হলো উপস্থিত দর্শকরা। কোনো জাঁকজমকপূর্ণ কনসার্ট নয়, বরং হেলিকপ্টারে চড়ে মাঠে নামল এবারের আসরের সেই বহুল চর্চিত ‘হীরাখচিত’ ট্রফি।
বিপিএলের আগের আটটি আসরে ট্রফি নিয়ে এত শোরগোল সম্ভবত আগে কখনো হয়নি। দুবাইয়ের নিপুণ কারিগরদের হাতে তৈরি এই ট্রফিটির মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। কয়েক হাজার হীরা বসানো এই স্মারকটি টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ছিল লোকচক্ষুর আড়ালে। আজ (শুক্রবার) ফাইনালের মাহেন্দ্রক্ষণে বিকেল সাড়ে ৪টায় পর্দা উঠল সেই রহস্যের।
হেলিকপ্টার থেকে লাল কাপড়ে মোড়া ট্রফিটি সযত্নে মাঠে নামিয়ে আনেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী এবং নারী ক্রিকেট দলের আইকন সালমা খাতুন। এটি কেবল একটি ট্রফি উন্মোচন ছিল না, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের সোনালি সাফল্যকে সম্মান জানানোর এক প্রতীকী রূপও বটে।
মাঝমাঠে স্থাপিত একটি বিশেষ ‘ট্রফি কেসে’ স্থাপন করার পর উন্মোচিত হয় হীরার দ্যুতিমাখা সেই শিরোপা। ট্রফির দুই পাশে দাঁড়িয়ে ফটোসেশনে অংশ নেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের চোখের ঝিলিক বলে দিচ্ছিল, মাঠের লড়াইয়ে এই অমূল্য সম্পদ নিজেদের করে নিতে তারা কতটা মরিয়া।
বিপিএলের এবারের ফাইনালে বাড়তি কোনো গানের অনুষ্ঠান বা জাঁকজমক রাখা হয়নি। তবে বিসিবি জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণের আগে চোখধাঁধানো আতশবাজি এবং লেজার শোর ব্যবস্থা থাকবে। মিরপুর এখন কেবল মাঠের লড়াই শুরুর অপেক্ষায়।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীকে হারিয়েই সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল চট্টগ্রাম। অন্যদিকে, এলিমিনেটর আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের কঠিন বাধা টপকে আবার চট্টগ্রামের সামনেই দাঁড়িয়েছে রাজশাহী। প্রতিশোধ আর শিরোপা জয়ের এই লড়াইয়ে কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা, আর কার হাতে উঠবে ২৫ লাখি এই হীরাখচিত ট্রফি— তা দেখার জন্য প্রহর গুনছে পুরো দেশ।

