মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাক্যযুদ্ধ। ওয়াশিংটন যখন ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার দোহাই দিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, তেহরান তখন পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে—তাদের সেনাদের আঙুল এখন বন্দুকের ট্রিগারে।
ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার জেনারেল মোহম্মদ পাকপৌর গতকাল বৃহস্পতিবার এক কড়া বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংলাপের নাম করে সামরিক অভিযানের কোনো নীল নকশা তৈরি করলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলকে ‘যন্ত্রণাদায়ক’ ও ‘মর্মান্তিক’ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে ট্রাম্পের দেওয়া এক ভাষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রতিক্রিয়া জানাল ইরান। দাভোসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু মার্কিন হামলায় তা ভেস্তে গেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান এখন সংলাপে বসতে আগ্রহী এবং তারা আলোচনা করবেন, তবে কোনোভাবেই তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে দেওয়া হবে না।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিপরীতে জেনারেল পাকপৌর গত বছরের জুন মাসের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সে সময় আলোচনার আবহ থাকাকালেই ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছিল। এতে ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানী প্রাণ হারান। পাকপৌর বলেন, “শত্রুদের সেই বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হওয়া উচিত যে তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে পার পেয়ে যাবে। জুনের সেই ১২ দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা যদি তারা ভুলে গিয়ে থাকে, তবে সেটা তাদের জন্য চরম দুঃখজনক হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইআরজিসি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। আমাদের সর্বোচ্চ নেতার একটি মাত্র আদেশের অপেক্ষায় আছি আমরা।”
এদিকে উত্তেজনা কেবল কথাতেই সীমাবদ্ধ নেই। দাভোস থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরানকে চোখে চোখে রাখতে দেশটির সমুদ্র উপকূলের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের একটি বিশাল বহর পাঠানো হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধ এখন সরাসরি সামরিক হুমকির পর্যায়ে চলে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। তেহরানের দাবি, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ; কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তা মানতে নারাজ। এই আস্থার সংকটের মাঝে জেনারেল পাকপৌর-এর ‘ট্রিগারে আঙুল’ থাকার ঘোষণাটি মূলত আসন্ন বড় কোনো সংঘাতের আগাম সংকেত হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

