রাজধানীর আকাশ আজ কিছুটা মেঘলা থাকলেও মিরপুরের উত্তাপ যেন সব সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) জমকালো ফাইনাল শুরু হতে তখনও ঘণ্টা দুয়েকের বেশি সময় বাকি, কিন্তু ‘হোম অব ক্রিকেট’ খ্যাত শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের চারপাশ এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ক্রিকেটপ্রেমীদের এই জনস্রোত যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে, এ দেশে ক্রিকেট কেবল একটি খেলা নয়, বরং এক পরম আবেগের নাম।
বিসিবি আগেই জানিয়েছিল যে ফাইনালের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তবুও মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের প্রতিটি প্রবেশপথে হাজারো মানুষের ভিড়। অনেকের হাতে সেই আরাধ্য ‘সোনার হরিণ’ বা কাঙ্ক্ষিত টিকিট থাকলেও, একটি বড় অংশ এসেছেন কেবল ভাগ্যের জোরে যদি শেষ মুহূর্তে কোনোভাবে গ্যালারিতে প্রবেশের সুযোগ মেলে।
টিকিট না পেয়েও মাঠের বাইরে অপেক্ষায় থাকা মোহাম্মদ মনছুর নামের এক ভক্তের সঙ্গে কথা হলে তার চোখেমুখে ধরা পড়ে এক অদ্ভুত আকুলতা। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই কট্টর সমর্থক জানান, তিনি দূর থেকে ছুটে এসেছেন প্রিয় দলের লড়াই দেখতে। টিকিট না পেলেও হাল ছাড়েননি তিনি। তার ভাষায়, “যদি কালোবাজারি বা কারো কাছ থেকে একটু বাড়তি দামেও টিকিট পাই, তবে তা কিনতেই প্রস্তুত। আজকের ঐতিহাসিক ফাইনালটা আমি মিস করতে চাই না।”
স্টেডিয়াম এলাকায় ঘুরতে গিয়ে দেখা গেল সমর্থকদের রঙের বৈচিত্র্য। তবে আজকের ভিড়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সমর্থকদের দাপট যেন একটু বেশিই চোখে পড়ার মতো। দলবদ্ধভাবে ‘রাজশাহী-রাজশাহী’ স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে মিরপুরের আকাশ-বাতাস। সেই তুলনায় চট্টগ্রাম রয়্যালসের সমর্থকদের উপস্থিতি কিছুটা কম মনে হলেও, ম্যাচ শুরুর আগে তারাও যে মাঠ কাঁপাতে তৈরি, তা বোঝা যাচ্ছিল তাদের ছোট ছোট জটলা দেখে।
ভক্তদের পরনে প্রিয় দলের জার্সি, কপালে জাতীয় পতাকা আর গালে আঁকা প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম—সব মিলিয়ে মিরপুর আজ এক উৎসবের নগরী। নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। গেট খোলার আগে থেকেই শৃঙ্খলার সাথে লাইন ধরে দাঁড়াতে দেখা গেছে ভাগ্যবান টিকিটধারীদের।
এখন কেবল টসের অপেক্ষা। মাঠের লড়াইয়ে আজ শেষ হাসি কে হাসবে, রাজশাহী নাকি চট্টগ্রাম—তা নিয়ে সমর্থকদের তর্ক-বিতর্ক পুরো মিরপুর এলাকাকে এক জীবন্ত ক্রিকেট উৎসবে পরিণত করেছে।

