২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং ভেন্যু জটিলতা নিরসনে বহুল প্রতীক্ষিত বোর্ড সভা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এই সভা শুরু হয়। ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশের অনড় অবস্থান এবং পাকিস্তানের আকস্মিক সমর্থনের পর এই বৈঠকটি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আইসিসির সকল পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য এবং ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার লক্ষ্যেই এই হাই-প্রোফাইল মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
আইসিসির এই নীতি-নির্ধারণী সভায় উপস্থিত রয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের প্রভাবশালী সব ব্যক্তিত্ব: স্বাগতিক ও সংশ্লিষ্ট দেশ: বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিত সাইকিয়া, এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) সভাপতি শাম্মি সিলভা।
অন্যান্য পূর্ণ সদস্য দেশ: পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি (যিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছেন), ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড, ইসিবি (ইংল্যান্ড) চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন, এবং আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মিরওয়াইস আশরাফ।
বোর্ড প্রতিনিধিগণ: জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সভাপতি তাভেঙ্গা মুখুলানি, ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সভাপতি কিশোর শ্যালো, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের চেয়ারম্যান ব্রায়ান ম্যাকনিস, ক্রিকেট নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধি রজার টুজ, এবং ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি মোহাম্মদ মুসাজি।
সভার গুরুত্ব বিবেচনায় আইসিসির শীর্ষ ব্যবস্থাপনাও এতে পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে: আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সংযোগ গুপ্তা। আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। ইভেন্টস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। এছাড়া দুইজন অ্যাসোসিয়েট মেম্বার ডিরেক্টর—মুবাশশির উসমানি ও মহিন্দা ভল্লিপুরাম বৈঠকে উপস্থিত আছেন।
বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী গ্রুপ পরিবর্তন বা ভেন্যু স্থানান্তর। বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’-তে ভারতের ভেন্যুগুলোতে (কলকাতা ও মুম্বাই) খেলার পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় খেলার প্রস্তাব দিয়েছে। আইসিসি এর আগে ভেন্যু পরিবর্তনে অস্বীকৃতি জানালেও পিসিবির পাঠানো সাম্প্রতিক চিঠি এবং বিসিবির অনড় অবস্থান তাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে বাংলাদেশের পরিবর্তে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তবে পূর্ণ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া আইসিসির জন্য একটি বড় আইনি ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সভা থেকে তিনটি ফল আসতে পারে: ১. আইসিসি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভারতেই খেলার অনুরোধ করবে। ২. বাংলাদেশের দাবি মেনে নিয়ে কিছু ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করা হতে পারে (যা সূচি অনুযায়ী কঠিন)। ৩. বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত না খেললে স্কটল্যান্ডকে বদলি দল হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

