মিরপুরের মন্থর উইকেটে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে জয়ী হলো চট্টগ্রাম রয়্যালস। বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে শক্তিশালী রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আসরের প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে বন্দরনগরীর দলটি। ১৩৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩ বল হাতে রেখেই উল্লাসে মাতে শেখ মেহেদী হাসানের দল।
মঙ্গলবার রাতে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক। শুরুটা রাজশাহীর জন্য খুব একটা মন্দ ছিল না, কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যাটিং ধস তাদের বড় সংগ্রহের স্বপ্নে জল ঢেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৩৩ রানে থামে রাজশাহীর ইনিংস।
ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহীর দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম সাবধানে শুরু করেন। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩০ রান। তবে ১৯ বলে ২১ রান করে ফারহান বিদায় নিলে চাপে পড়ে দলটি। তানজিদ তামিম এক প্রান্ত আগলে রেখে ৩৭ বলে ৪১ রান করলেও অন্য প্রান্তে ছিল আসা-যাওয়ার মিছিল।
রাজশাহীর মিডল অর্ডার এদিন পুরোপুরি ব্যর্থ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (৮), অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম (০), আকবর আলি (৩) ও জিমি নিশামরা (৬) উইকেটে থিতু হতে পারেননি। এক পর্যায়ে অল্পতেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল রাজশাহী। তবে শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ১৫ বলে ৩৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে লড়াই করার মতো পুঁজি পায় তারা। চট্টগ্রামের পক্ষে শেখ মেহেদী ও আমির জামাল ২টি করে উইকেট নেন।
১৩৪ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালসের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মির্জা অত্যন্ত মন্থর কিন্তু কার্যকর শুরু করেন। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ৬৪ রান। নাঈম ৩৮ বলে ৩০ রান করে আউট হলেও মির্জা এক প্রান্ত ধরে রেখে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। তিনি খেলেন ৪৭ বলে ৪৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস।
মাঝপথে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল চট্টগ্রাম। আসিফ আলি (১১) ও ২০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলা লড়াকু ব্যাটাররা বিদায় নিলেও শেষটা রাঙান অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান নিজেই। মাত্র ৯ বলে ১৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার সঙ্গে ২ রানে অপরাজিত ছিলেন আমির জামাল। ১৯.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম।
মিরপুরের পিচ বরাবরের মতোই মন্থর গতির হওয়ায় রান তোলা কঠিন ছিল। তবে চট্টগ্রামের বোলারদের শৃঙ্খলা এবং ব্যাটারদের ধৈর্যই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। পুরো ম্যাচে পাঁচজন বোলার একটি করে উইকেট নিয়ে দলীয় প্রচেষ্টার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষ করে শেখ মেহেদীর অলরাউন্ড নৈপুণ্য চট্টগ্রামকে ফাইনালে তোলার প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করেছে।
এই হারের ফলে রাজশাহীর ফাইনালের আশা এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে এলিমিনেটর জয়ী দলের সাথে লড়ার সুযোগ পাবে তারা। তবে চট্টগ্রামের জন্য এখন শুধুই শিরোপার অপেক্ষা।

