আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রচারণায় নামায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ চারটি রাজনৈতিক দলকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, আইন অমান্য করলে ভবিষ্যতে দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সতর্কবার্তা পাওয়া অন্য দুটি রাজনৈতিক দল হলো— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রচারণার নির্ধারিত সময়সীমা শুরুর আগেই এই দলগুলো মাঠে সক্রিয় হওয়া এবং প্রচারণা অব্যাহত রাখার প্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অভিযোগ অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারির আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এই চারটি দল আইন অমান্য করে গণসংযোগ ও প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল।
বিএনপির পক্ষ থেকে করা এই অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করে কমিশন ঘটনার সত্যতা খুঁজে পায়। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণায় নামা ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর ১৮ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কমিশন তার চিঠিতে উল্লেখ করেছে, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী প্রচারণার জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণ স্থির করা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দলগুলো সেই সময়সীমা উপেক্ষা করেছে, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের পাঠানো চিঠিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২১ জানুয়ারির আগে কোনো দল বা প্রার্থী সভা, সমাবেশ কিংবা কোনো প্রকার প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। বিধিভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে অবিলম্বে এসব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রার্থিতা বাতিলসহ অন্যান্য কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আচরণবিধি মোতাবেক, ভোটগ্রহণের একটি নির্দিষ্ট সময় পূর্ব পর্যন্ত সকল দল ও প্রার্থীর প্রচারণার সুযোগ থাকলেও তার আগে গণসংযোগের ওপর আইনি বিধিনিষেধ আরোপিত থাকে। এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আচরণবিধি প্রতিপালনে কমিশন অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ ধরনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ইসির হস্তক্ষেপ একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে নির্বাচন কমিশনকে সব দলের প্রতি সমান আচরণ করার এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ। ইসির এই সতর্কবার্তা দলগুলোর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং নির্বাচনী মাঠের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

