মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে এক উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ট্রাম্প নিজেই মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের কাছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বে কূটনৈতিকভাবে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়া পুতিনকে ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “হ্যাঁ, পুতিনকে এই পরিষদে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা চাই বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হোক।”
ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অব পিস’ মূলত একটি আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে, যার প্রধান হিসেবে থাকবেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংস্থাটি শুরুতে গাজা উপত্যকার যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা, মানবিক সহায়তা এবং পুনর্গঠন তদারকি করবে। পরবর্তী ধাপে এটি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সংঘাত নিরসনেও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে।
ইতোমধ্যেই এই পরিষদে যোগ দেওয়ার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অন্তত ৬০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া মিশর, জর্ডান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকেও এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাম্পের এই শান্তি পরিষদের একটি অন্যতম দিক হলো এর সদস্যপদ লাভের শর্ত। পরিষদের সদস্যদের প্রাথমিক মেয়াদ হবে তিন বছর। তবে কোনো দেশ যদি এককালীন ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার এই তহবিলে দান করে, তবে তারা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন কাজে ব্যবহার করা হবে।
ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, তারা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আমন্ত্রণের বিষয়টি পেয়েছেন। তবে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানিয়ে মস্কো বলেছে, তারা এই প্রস্তাবের প্রতিটি দিক এবং আইনি বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে এর খুটিনাটি বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়ার পরই পুতিন তার অবস্থান জানাবেন।
এদিকে ট্রাম্পের এই উদ্যোগ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এটি সরাসরি জাতিসংঘের কার্যকারিতাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে। বছরের পর বছর ধরে বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখার কাজ করে আসা জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্পের এই ‘ব্যক্তিগত’ ও ‘ব্যবসায়িক ঢং’-এর পরিষদ বিশ্ব সংস্থাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকেও এই বোর্ডের গঠন নিয়ে কিছুটা আপত্তি এসেছে। তারা জানিয়েছে, গাজা নিয়ে যেকোনো নির্বাহী বোর্ড গঠনের আগে ইসরায়েলের সাথে আরও নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এটি কেবল গাজা নয়, বরং আগামীর বিশ্ব ব্যবস্থায় বড় শক্তিগুলোর একটি মিলনমেলা হিসেবে কাজ করবে।

