দেশের বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকা চালের দাম নিয়ন্ত্রণে এবার প্রতিবেশী ভারত থেকে বড় চালানে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বেসরকারি খাতের মাধ্যমে নতুন করে আরও ২ লাখ টন সেদ্ধ চাল আমদানির এই সবুজ সংকেত ঢাকার পক্ষ থেকে আসতেই খুশির জোয়ার বইছে ভারতের মিল মালিক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পিটিআই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্ধ্রপ্রদেশের ব্যবসায়ীরা দারুণ লাভবান হবেন। ঢাকার এই পদক্ষেপকে তারা দেখছেন পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের চাল রপ্তানি খাতের জন্য এক নতুন দিগন্ত হিসেবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট ২৩২টি বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে এই ২ লাখ টন চাল আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই অনুমতির পেছনে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু কড়া শর্ত। আমদানিকৃত এই চাল আগামী ১০ মার্চের মধ্যে দেশের বাজারে পৌঁছাতে হবে এবং আমদানিকারকরা কোনোভাবেই এই চাল নিজস্ব ব্র্যান্ডের নামে পুনরায় প্যাকেটজাত করতে পারবেন না; বরং সরাসরি বস্তায় বাজারে বিক্রি করতে হবে।
ভারত থেকে এই নতুন আমদানি মূলত ২০২৫ সালের আগস্টে ঘোষিত ৯ লাখ টন চাল আমদানির মহাপরিকল্পনারই একটি অংশ। সাম্প্রতিক বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দেশের খাদ্য মজুদ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। সেই ঘাটতি পূরণ এবং চিকন ও মাঝারি চালের বাজারে লাগাম টানতেই সরকার আমদানির এই বাড়তি বরাদ্দ দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারতীয় চাল রপ্তানি ফেডারেশনের (আইআরইএফ) সভাপতি প্রেম গার্গ ঢাকার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই ভারতের চালের অন্যতম বড় ও বিশ্বস্ত বাজার। ভৌগোলিক সান্নিধ্যের কারণে আমাদের পরিবহন খরচ যেমন কম, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আমরা পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল দিতে পারছি।”
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের সাদা চালের টন প্রতি দাম পড়ছে ৩৫১ থেকে ৩৬০ ডলারের মধ্যে, যেখানে পাকিস্তানের চালের দাম ৩৯৫ ডলারের কাছাকাছি। ফলে দামের এই বিশাল পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশের বেসরকারি আমদানিকারকদের প্রথম পছন্দই এখন ভারত।
রাজধানীর বাজারে গত কয়েক সপ্তাহে জিরাশাইল ও শম্পা কাটারির মতো জনপ্রিয় চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরকারের হাতে বর্তমানে প্রায় ২১ লাখ টন খাদ্যশস্যের মজুদ থাকলেও, খুচরা বাজারে এর সুফল মিলছিল না। ব্যবসায়ীদের মতে, সরাসরি আমদানির খবরে বাজারে যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হবে, তাতে কেজিতে অন্তত ৪-৫ টাকা দাম কমতে পারে।
তবে কৃষি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ কিছুটা শঙ্কার কথা শুনিয়েছেন। তারা বলছেন, ১০ মার্চের পর চাল আসা শুরু হলে সেটি স্থানীয় বোরো মৌসুমের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা প্রান্তিক কৃষকদের ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তবুও আপদকালীন সংকট মোকাবিলায় এই মুহূর্তে আমদানির বিকল্প নেই বলেই মনে করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

