মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নকআউট পর্বের মহাযুদ্ধ। এলিমিনেটর ম্যাচে আজ মুখোমুখি হয়েছে রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্স। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টস ভাগ্য সহায় হয়েছে সিলেটের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের। টস জিতে তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই রংপুরকে আগে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
আজকের এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ‘ডু অর ডাই’ বা মরণ-বাঁচন লড়াই। যে দল হারবে, তাদের শিরোপা স্বপ্ন সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। আর জয়ী দল টিকে থাকবে টুর্নামেন্টে, তাদের খেলতে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ। এমন সমীকরণকে সামনে রেখে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ে দুই দলই তাদের সেরা শক্তির একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিশেষ করে সিলেট টাইটান্স তাদের স্কোয়াডে বড় ধরনের চমক এনেছে। ইংল্যান্ডের দুই তারকা ক্রিকেটার ক্রিস ওকস ও স্যাম বিলিংস এই ম্যাচেই অভিষেক ঘটাচ্ছেন সিলেটের জার্সিতে। এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার যোগ হওয়ায় সিলেটের বোলিং ও ব্যাটিং—উভয় বিভাগই বেশ শক্তিশালী দেখাচ্ছে।
সিলেটের একাদশে আজ মোট চারটি পরিবর্তন এসেছে। ওকস ও বিলিংসকে জায়গা দিতে গিয়ে কপাল পুড়েছে উদীয়মান ইংলিশ ব্যাটার ইথান ব্রুকসের। এছাড়া আরিফুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদকে ফেরানো হয়েছে একাদশে। বাদ পড়েছেন শহিদুল ইসলাম, রুয়েল মিয়া ও মুমিনুল হক। অধিনায়ক মিরাজ চাইছেন শুরুতেই রংপুরকে চেপে ধরে লক্ষ্যটা নাগালের মধ্যে রাখতে।
অন্যদিকে, লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন রংপুর রাইডার্সও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। তারা তাদের একাদশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আগের ম্যাচে বিশ্রামে থাকা দুই তুরুপের তাস—কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান এবং ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার কাইল মায়ার্স আজ একাদশে ফিরেছেন। মায়ার্সের অন্তর্ভুক্তি রংপুরের টপ অর্ডারকে যেমন শক্তিশালী করেছে, তেমনি মুস্তাফিজের উপস্থিতি ডেথ ওভারে বিপক্ষ শিবিরের জন্য ত্রাস হয়ে উঠতে পারে।
মিরপুরের উইকেট সাধারণত বিকেলের দিকে কিছুটা ধীরগতির থাকে, যা স্পিনারদের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে ফ্লাডলাইটের নিচে শিশিরের প্রভাব ব্যাটিং সহজ করে দিতে পারে ভেবেই মিরাজ ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, লিটন-হৃদয়রা বোর্ডে কত বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেন।
সিলেট টাইটান্স: তাওফিক খান, পারভেজ হোসেন ইমন (উইকেটরক্ষক), আরিফুল ইসলাম, স্যাম বিলিংস, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, মঈন আলি, ক্রিস ওকস, নাসুম আহমেদ, সালমান ইরশাদ ও খালেদ আহমেদ।
রংপুর রাইডার্স: তাওহীদ হৃদয়, ডেভিড মালান, লিটন দাস (অধিনায়ক), কাইল মায়ার্স, খুশদিল শাহ, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ফাহিম আশরাফ, নাহিদ রানা, আলিস ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।

