সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯ হাজার ফুট উচ্চতা। চারদিকে হিমালয়ের রুক্ষ সৌন্দর্য আর হাড়কাঁপানো বাতাস। এমন এক বৈরী পরিবেশে রোম্যান্সের উষ্ণতা ছড়াতে দেখা যাবে ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল ও নবাগত ফররুখ আহমেদ রেহানকে। নেপালের মুস্তাং জেলার ঐতিহাসিক ‘জমসম’ শহরে চিত্রায়িত হয়েছে তাদের নতুন মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘ও জান’।
বলিউড নির্মাতাদের প্রিয় এই লোকেশনে এবার পা রাখল বাংলাদেশের একটি বড় প্রজেক্ট। জানা গেছে, মাইনাস ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার তীব্র ঠান্ডার মধ্যে গানটির দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ‘ও জান’ ভিডিওর মাধ্যমে এই প্রথম বড় পরিসরে একসঙ্গে পর্দায় হাজির হচ্ছেন সুনেরাহ ও রেহান।
গত বছরের তুমুল জনপ্রিয় গান ‘ময়না’-র সাফল্যের পর একই টিম নিয়ে মাঠে নেমেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গানচিল মিউজিক। বরাবরের মতোই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কোনাল ও নিলয়। আসিফ ইকবালের কাব্যিক কথায় সুরের মূর্ছনা ছড়িয়েছেন ঢাকার আভ্রাল সাহির ও কলকাতার লিংকন। সংগীতায়োজন করেছেন আভ্রাল সাহির নিজেই। আর পুরো মিউজিক্যাল ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন গুণী নির্মাতা তানিম রহমান অংশু।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে সুনেরাহ বিনতে কামাল তার মুগ্ধতা প্রকাশ করতে ভোলেননি। তিনি বলেন, “জমসম জায়গাটা ঠিক প্রকৃতির নিজের হাতে আঁকা এক বিশাল ক্যানভাসের মতো। পাহাড়ি ঝোড়ো বাতাস আর প্রচণ্ড ঠান্ডা আমাদের শরীর জমিয়ে দিচ্ছিল, কিন্তু ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর পর এই স্বর্গীয় সৌন্দর্য সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। দর্শক গানটির ভিজ্যুয়াল দেখলে বুঝতে পারবেন আমরা কতটা ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি।”
পরিচালক তানিম রহমান অংশু জানান, এটি কেবল একটি মিউজিক ভিডিও নয়, বরং একটি বড় মাপের আন্তর্জাতিক কাজ। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের যৌথ উদ্যোগে এবং তিন দেশের দক্ষ কলাকুশলীদের সম্মিলিত পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই প্রোডাকশন। সিনেমাটিক মেকিং ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতেই নেপালের এই দুর্গম এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
নির্মাতা মনে করেন, শুধু গানের সুর নয়, বরং পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি খেলা ‘ও জান’-এর প্রাণ হিসেবে কাজ করবে। হিমালয়ের কোলে চিত্রায়িত এই রোম্যান্টিক গল্পটি সাধারণ মিউজিক ভিডিওর সীমা ছাড়িয়ে দর্শকদের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্রের স্বাদ দেবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩০ জানুয়ারি গানচিল মিউজিকের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত এই রোম্যান্টিক কাজ। সুনেরাহ-রেহানের নতুন রসায়ন আর হিমালয়ের সৌন্দর্য—দুইয়ে মিলে দর্শক এক অন্যরকম অভিজ্ঞতার অপেক্ষায় আছেন।

