আগামীকাল ১৯ জানুয়ারি (সোমবার), বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম প্রবাদপ্রতিম পুরুষ, মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে দুই দিনের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়। ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারার এক নিভৃত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক। যিনি পরবর্তীতে ১৯৭১-এর উত্তাল দিনে স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে দেশের ক্রান্তিলগ্নে বারবার কান্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, কাল সোমবার বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ২০ জানুয়ারি বেলা ১১টায় কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে অনুষ্ঠিত হবে এক আলোচনা সভা। এতে অংশ নেবেন দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রয়াত রাষ্ট্রপতিকে ‘স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “শহীদ জিয়া ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনের দিশারী। যখন বাক-স্বাধীনতা হরণ করে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল, তখন ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব তাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।”
ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান কেবল যুদ্ধজয়ের নায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ৪০ লাখ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করার যে পথ তিনি দেখিয়েছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। একাত্তরের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে তার সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং ২৬ মার্চ কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে দিশা দিয়েছিল।
জন্মদিনটি উপলক্ষ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর ও উপজেলা কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো নিজ নিজ সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক মহাসংকটকালে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার ৯০তম জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আবেগ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

