টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে গেলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। তার মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা আপিল আবেদনটি আজ রবিবার সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) আজ সকাল থেকেই ছিল উৎকণ্ঠা। লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন একই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. লিয়াকত আলী। শুনানির সময় লিয়াকত আলীর আইনজীবী দাবি করেন, লতিফ সিদ্দিকী তার হলফনামায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। তিনি প্রার্থীর দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিশনের কাছে জোর দাবি জানান।
অভিযোগের জবাবে লতিফ সিদ্দিকী নিজে শুনানিতে অংশ নিয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে শত শত মামলা হয়েছে। কিন্তু সেসব মামলার বর্তমান অবস্থা কী? নিম্ন আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে আমি নিজে থানায় আত্মসমর্পণ করেছিলাম এবং পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছি।” তিনি যুক্তি দেন যে, এরপর তিনি আর কোনোদিন আদালতে হাজির হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি এবং আইনগতভাবে ওই মামলাগুলোর বর্তমান অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন আছে।
শুনানি চলাকালীন লতিফ সিদ্দিকী নিউ ইয়র্কের একটি পুরনো ঘটনার উদাহরণ টেনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনি প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন। তিনি কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, “টকশোতে বসে আইনের অনেক ব্যাখ্যা দেওয়া যায়, কিন্তু আমি ন্যায়-নীতি ও আদর্শকে ধারণ করি।” তিনি অভিযোগকারী প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে বলেন, বিগত ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তারা একে অপরের প্রতিপক্ষ ছিলেন এবং তখনও এই মামলাগুলো ছিল।
লতিফ সিদ্দিকী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন বাছাইয়ের দিনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “রিটার্নিং কর্মকর্তা যখন জানতে চেয়েছিলেন কারো কোনো আপত্তি আছে কি না, তখন তো এই প্রার্থী চুপ ছিলেন। এমনকি তিনি নিজেই তখন না বলেছিলেন। হঠাৎ করে কেন এই আপিল, তা আমার বোধগম্য নয়।” তিনি কমিশনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলেন, “আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি, আপনারা যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা মাথা পেতে নেব।”
উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ লিয়াকত আলীর আপিলটি খারিজ করে দেন। কমিশন জানায়, লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রটি আইনগতভাবে বৈধ এবং তার বিরুদ্ধে আনা তথ্য গোপনের অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্তের পর টাঙ্গাইল-৪ আসনে লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ ছিল আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের জন্য আজই ছিল শেষ সুযোগ। লতিফ সিদ্দিকীর প্রার্থিতা বহাল থাকায় টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কালিহাতীর এই প্রবীণ নেতার উপস্থিতি ভোটের মাঠকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলবে।
এখন চূড়ান্ত প্রতীকের অপেক্ষায় প্রার্থীরা। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর লতিফ সিদ্দিকী ও লিয়াকত আলীসহ অন্য প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামবেন। টাঙ্গাইল-৪ আসনের ভোটারদের নজর এখন মাঠের লড়াইয়ের দিকে।

