চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় আটক হওয়া জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫৫) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে দেওয়া এক শোক বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনাকে ‘অমানবিক ও পৈশাচিক’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে শামসুজ্জামান ডাবলুর মালিকানাধীন ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে তাকে আটক করা হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছিল এবং তার ফার্মেসি থেকে একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিএনপি নেতা ও তার স্বজনদের অভিযোগ, আটকের পর তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যার ফলে তার মৃত্যু হয়।
মির্জা ফখরুল তার বিবৃতিতে বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত এ ধরনের ঘটনা দেশের জন্য শুভ নয়। বিচারবহির্ভূতভাবে শামসুজ্জামান ডাবলুকে নির্যাতন করে হত্যা করা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি চরম অবমাননা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে যে কোনো অপরাধের বিচার আদালতের মাধ্যমে হওয়ার কথা থাকলেও এ ধরনের ‘হেফাজতে মৃত্যু’ মানুষের মাঝে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, “অস্ত্র উদ্ধারের নামে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। আমি এই লোমহর্ষক ঘটনার বিষয়ে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”
এদিকে, এই ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ বলে স্বীকার করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। মঙ্গলবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে: সদস্য প্রত্যাহার: অভিযুক্ত ক্যাম্প কমান্ডারসহ অভিযানে অংশ নেওয়া সকল সেনাসদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি: ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা: তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জীবননগর উপজেলা সদরে বিক্ষোভ শুরু করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হয়ে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভকারীরা এই মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে দাবি করে স্লোগান দেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শামসুজ্জামান ডাবলুর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি একজন জনপ্রিয় জননেতা ছিলেন এবং তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই টার্গেট করা হয়েছে। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

