চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে চিরস্থায়ী রূপ দিতে এবং ফ্যাসিবাদের অবশেষ নির্মূল করতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। তিনি দেশের সকল রাজনৈতিক দল, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী এবং বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে জনমত গঠনে এখন থেকেই সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। রোববার (১১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ জাতির সামনে দেশ গড়ার যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার। তিনি বলেন, “আমাদের তরুণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা রাজপথে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিল বলেই দেশ আজ ফ্যাসিবাদের নাগপাশ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, কেবল একটি সরকারের পতনই যথেষ্ট নয়। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তাদের তৈরি করা নিপীড়নমূলক আইন, অপসংস্কৃতি ও প্রশাসনিক রীতি এখনো পুরোপুরি উৎখাত হয়নি। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতেই ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে।”
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, এই সনদের আইনি ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতেই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে হলে এবং এর সুফল ঘরে তুলতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। তবে সরকারের নির্বাচন ও গণভোট একই সঙ্গে আয়োজনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিলাম যে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন আলাদা সময়ে আয়োজন করা হোক। কারণ, নির্বাচনের আমেজে গণভোটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু আড়ালে চলে যেতে পারে। আমাদের সেই যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করার ফল এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি; রাজনৈতিক ময়দানে জুলাই সনদের আলোচনা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে গেছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”
পীর সাহেব চরমোনাই জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪-এর জুলাইয়ে জনতা কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য রক্ত দেয়নি, বরং একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে লড়াই করেছে। জুলাই সনদে জনগণের সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তাই এই সনদের পক্ষে জনমত তৈরি করা প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি গণভোটের গুরুত্ব কমিয়ে ফেলা হয়, তবে ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, একটি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এখনো দেশের অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এই নিরাপত্তা ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে সরকারকে আরও কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে একটি ভয়ভীতিহীন পরিবেশ তৈরি করবে যাতে নাগরিকরা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
বিবৃতিতে তিনি দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীকে ‘জুলাই সনদ’ এবং গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেন। পীর সাহেব চরমোনাইয়ের এই কড়া বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

