আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ডামাডোলের মাঝে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বিপিএলে জাতীয় দলের ব্যাটারদের ফর্ম নিয়ে চলছিল চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে বড় রানের প্রত্যাশা ছিল ক্রিকেট প্রেমীদের। আজ সিলেটের সবুজ গালিচায় সেই আক্ষেপ মেটানোর দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেছিলেন এই তরুণ তুর্কি। যদিও মাত্র ৩ রানের জন্য ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা একটি সেঞ্চুরি মিস করেছেন তিনি, তবে তার অপরাজিত ৯৭ রানের অনবদ্য ইনিংসে ভর করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে বড় পুঁজি গড়েছে রংপুর রাইডার্স।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে টস ভাগ্য সহায় ছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের। মেঘলা আকাশ আর উইকেটের সুবিধা নিতে রংপুরকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান রাজশাহীর অধিনায়ক। ইনিংসের শুরুটা অবশ্য রংপুরের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। পাওয়ার প্লে এবং ইনিংসের প্রথম অর্ধাংশ জুড়ে চল ছিল রাজশাহীর বোলারদের একাধিপত্য। দলীয় ২৯ রানেই সাজঘরের পথ ধরেন ক্যারিবীয় হার্ডহিটার কাইল মায়ার্স।
রিপন মন্ডলের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি মাত্র ৮ রান সংগ্রহ করেন। তিন নম্বরে নামা অভিজ্ঞ লিটন দাসও আজ আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন; ১৪ বলে ১১ রান করে তিনিও দ্রুত বিদায় নেন। মিডল অর্ডারে ইফতিখার আহমেদের মন্থর ব্যাটিং রংপুরের রানের গতিতে আরও ভাটা ফেলে। ১৫ বলে মাত্র ৮ রান করে ইফতিখার যখন ফেরেন, তখন ১১.২ ওভারে মাত্র ৭২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে ছিল রংপুর।
বিপর্যয়ের এই মুহূর্তে ক্রিজে থিতু হন তাওহীদ হৃদয় এবং পাকিস্তানি রিক্রুট খুশদিল শাহ। এই জুটির দৃঢ়তায় ইনিংসের মোড় ঘুরে যায়। রাজশাহী বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে এই দুই ব্যাটার ১০৫ রানের এক অনবদ্য পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। খুশদিল শাহ খেলেন ২৯ বলে ৪৪ রানের একটি কার্যকর ইনিংস, যেখানে ছিল ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। খুশদিল যখন শেষ দিকে বিদায় নেন, তখন রংপুরের বড় স্কোর নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবে গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের সবটুকু মনোযোগ কেড়ে নিয়েছিলেন তাওহীদ হৃদয়। ৫৬ বলে সাজানো তার ৯৭ রানের ইনিংসটি ছিল ধ্রুপদী এবং আগ্রাসনের এক অনন্য মিশ্রণ। ৮টি চার ও ৪টি নান্দনিক ছক্কায় তিনি পুরো মাঠ মাতিয়ে রাখেন।
ইনিংসের অন্তিম মুহূর্তে হৃদয়ের সেঞ্চুরি নিয়ে নাটকীয়তা তৈরি হয়। ৭ বল বাকি থাকতে যখন তিনি ৯২ রানে অপরাজিত, তখন গ্যালারিতে শততম রানের অপেক্ষা ছিল তুঙ্গে। তবে পরের ওভারের স্ট্রাইক ভাগাভাগির মারপ্যাঁচে তিনি প্রান্ত বদল করতে হিমশিম খান। শেষ ওভারের একদম শেষ বলটি মোকাবিলা করার সুযোগ পেলেও সেটিকে সীমানা ছাড়া করতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে অপরাজিত ৯৭ রানেই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির আক্ষেপ থাকলেও তার এই লড়াকু ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বোলারদের মধ্যে রিপন মন্ডল, তানজিম হাসান সাকিব, জেমস নিশাম এবং সন্দ্বীপ লামিচানে প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট শিকার করেন। শুরুতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও হৃদয়ের মারমুখী ব্যাটিংয়ের কাছে শেষ দিকে খেই হারিয়ে ফেলেন রাজশাহীর বোলাররা। জয়ের জন্য ১৭৯ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স কেমন জবাব দেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশ্বকাপের আগে হৃদয়ের এমন ফর্ম নিঃসন্দেহে জাতীয় দলের নির্বাচকদের জন্য স্বস্তির বার্তা বহন করছে।

