বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং আধুনিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রপথিক বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক বিশাল দোয়া মাহফিল ও বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প (ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রূপগঞ্জের তারাবো এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। প্রয়াত এই নেত্রীর স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দেশ গঠনে তার অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধান অতিথি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার চিরবিদায়ে জাতি এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।” তিনি মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা করে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং তার প্রদর্শিত পথে দেশপ্রেমের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রয়াত নেত্রীর স্মরণে আয়োজিত এই মানবিক উদ্যোগটির পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল তায়রুননেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তারাবো পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই মেডিকেল ক্যাম্পটি পরিচালিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পে বিপুল সংখ্যক দুস্থ ও সাধারণ মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, জরুরি ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক এই উদ্যোগটি স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক এক বিশাল অধ্যায়ের অবসান ঘটে। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে পরিস্থিতির প্রয়োজনে রাজনীতিতে আসা এই মহীয়সী নারীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছিল প্রায় ৪৩ বছরের দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ। ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে যোগদানের পর ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের কাউন্সিলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন।
১৯৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার অবিচল ও আপসহীন ভূমিকার কারণে তিনি দেশবাসীর কাছে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারী শিক্ষার প্রসার এবং বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা চালুর ক্ষেত্রে তার সরকারের অবদান অনস্বীকার্য। তিন মেয়াদে সফলভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই জননেত্রীর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে আসে দেশ ও দেশের বাইরে। রূপগঞ্জে আয়োজিত আজকের এই স্মরণ সভা ও চিকিৎসা ক্যাম্প মূলত তার সেই জনকল্যাণমুখী আদর্শকে সাধারণ মানুষের মাঝে জীবন্ত রাখারই একটি প্রচেষ্টা।

