আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানি শেষে নিজেদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চারজন প্রার্থী। দলটির পক্ষ থেকে পেশ করা পাঁচটি পৃথক আবেদনের ওপর নিবিড় শুনানির পর আজ শনিবার কমিশন চারটি আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দলটির নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন করে গতি সঞ্চার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন দলটির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া সিনিয়র আইনজীবী মো. হানিফ মিয়া। তিনি জানান, প্রাথমিক বাছাইয়ে বিভিন্ন কারণে বাদ পড়া প্রার্থীদের পক্ষে তারা সুনির্দিষ্ট আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করার আদেশ প্রদান করেন।
কমিশনের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলেন তারা হলেন— চট্টগ্রাম-১১ আসনের নুর উদ্দিন, ঢাকা-১৮ আসনের আনোয়ার হোসেন, চাঁদপুর-২ আসনের মনসুর আহমেদ সাকী এবং বগুড়া-৩ আসনের মুহা. শাহজাহান আলী তালুকদার।
তবে আইনি জটিলতা বা প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি থাকায় বাগেরহাট-১ আসনের প্রার্থী মুজিবর রহমান শামীমের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে কমিশন। এই একটি আসন ব্যতিরেকে বাকি চার প্রার্থীর ফিরে আসা দলটির জন্য একটি বড় আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মনোনয়নপত্র বাতিলের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে আইনজীবী হানিফ মিয়া আরও জানান যে, এখন পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোট ৩৯টি মনোনয়নপত্র বিভিন্ন স্তরে বাতিল হয়েছিল। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিশেষ পর্যালোচনার পর পরবর্তী সময়ে তিনজনের মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছিল।
আজকের চারজনসহ এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে গেলেন। তবে এখনো যাদের প্রার্থিতা ঝুলে আছে, তাদের বিষয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। আগামী ১৪ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট প্রার্থীদের জন্য আপিল কার্যক্রম পুনরায় চলবে এবং দলটি আশাবাদী যে বাকি প্রার্থীরাও ন্যায়বিচার পাবেন।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি সংহত শক্তি হিসেবে পরিচিত। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের প্রার্থীদের এই বৈধতা প্রাপ্তি নির্বাচনের মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তৃণমূল পর্যায়ে দলটির যে অবস্থান রয়েছে, তা এই প্রার্থীদের বৈধতার মধ্য দিয়ে আরও সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে তাদের প্রার্থীরা বৈধতা পাওয়ায় নির্বাচনী লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশন তাদের স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই শুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

