বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলের তৎপরতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ইইউ-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই সাক্ষাৎকারে অংশ নেন, যেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উত্তরণ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের এই সাক্ষাৎ ছিল অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও কার্যকর। বৈঠকে মূলত বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক রোডম্যাপ, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো স্থান পায়। বিশেষ করে সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং বিএনপি যেভাবে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখছে, সে বিষয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বিএনপির পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিশেষ উপদেষ্টা ডক্টর মাহাদী আমিন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তারেক রহমানের সঙ্গে সমসাময়িক নানা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সফর এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকটি দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইইউ ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছে, যা এই বৈঠকের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী এবং এদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তারা সবসময়ই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। তারেক রহমান ইইউ প্রতিনিধি দলকে দেশের বর্তমান জন আকাঙ্ক্ষার কথা জানান এবং একটি স্থিতিশীল ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বিএনপির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইইউ-এর সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং সকল দলের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

