কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ৯ কোটি ২০ লাখ রুপির বিনিময়ে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিলেও শেষ পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কট্টরপন্থী চাপের মুখে তাকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয় বিসিসিআই। এই ঘটনাকে ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে একটি নেতিবাচক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন মিশা সওদাগর। তার মতে, একজন পেশাদার খেলোয়াড়কে এভাবে রাজনীতির শিকারে পরিণত করা কেবল কুরুচিপূর্ণই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চেতনার পরিপন্থী।
গত রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) ছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ এই খল অভিনেতার জন্মদিন। দিনটি উপলক্ষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলে উঠে আসে মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার প্রসঙ্গ। সেখানে ভারতের এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে মিশা সওদাগর বলেন, “মুস্তাফিজ কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। যারা উগ্রতা ও রাজনীতির দোহাই দিয়ে সংস্কৃতির এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল, তাদের আমি সরাসরি ধিক্কার জানাই।”
মিশা সওদাগর তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনে যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে পর্দার লড়াই চালিয়েছেন, ঠিক তেমনি বাস্তবের এই বৈষম্য দেখে নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি। তিনি মনে করেন, মুস্তাফিজের মতো একজন নক্ষত্রকে এভাবে অপমান করা মানে বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং এ দেশের আপামর জনতাকে অপমান করা।
ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে পরিচিত এই অভিনেতা মুস্তাফিজুর রহমানের খেলোয়াড়ি নৈপুণ্য ও বিনয়ী স্বভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “মুস্তাফিজ একজন অসাধারণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার। মাশরাফি বিন মুর্তজার পরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এত দীর্ঘ সময় ধরে যিনি এমন ঐশ্বর্যমণ্ডিত ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন, তাকে আদর করা যায়, পরম শ্রদ্ধার সাথে সম্মান জানানো যায়। অথচ এত বড় তারকা হওয়ার পরেও তার ভেতরে অহংকারের বিন্দুমাত্র রেশ নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, মুস্তাফিজের মতো একজন বিশ্বসেরা বোলারকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাদের সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সুস্থ পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি।
মিশা সওদাগর তার বক্তব্যে শিল্প, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সাথে রাজনীতির সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, শিল্প ও ক্রীড়া হওয়া উচিত সীমান্ত ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে, যেখানে মেধার মূল্যায়নই হবে একমাত্র মাপকাঠি। কিন্তু বর্তমানে ভারত যেভাবে ক্রীড়াঙ্গনে উগ্রতাকে স্থান দিচ্ছে, তা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে মিশা সওদাগর বলেন, “খুবই দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, রাজনীতি বা উগ্রতার কারণে যারা সংস্কৃতিকে পেছনে ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, তাদের প্রতি আমার ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই নেই। মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়াটা তাদের অত্যন্ত নিচু রুচির বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের অসুস্থ মন-মানসিকতা বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই।”
মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সৃষ্ট এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের আবেগ এখন তুঙ্গে। সরকার ইতিমধ্যে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মিশা সওদাগরের মতো একজন প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের এমন সাহসী অবস্থান সাধারণ মানুষকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। বিনোদন জগতের মানুষেরা মনে করেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় ক্রীড়া ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে এমন সম্মিলিত প্রতিবাদ আসা জরুরি।
মিশা সওদাগরের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভক্তরা তার এই স্পষ্টভাষী অবস্থানের প্রশংসা করছেন। সবার একটাই দাবি, কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চেই যেন বাংলাদেশের কোনো মেধাবী সন্তানকে রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হতে না হয়।

