ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর নজিরবিহীন হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। আজ রোববার বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে মাদুরো দম্পতিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং ‘আধিপত্যবাদী আচরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। চীন এই ন্যাক্কারজনক অপহরণ ও আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছে।” বেইজিং আরও উল্লেখ করেছে যে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের এই প্রচেষ্টা জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী। সামরিক শক্তির মাধ্যমে কোনো দেশের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই যেকোনো সংকটের সমাধান হওয়া উচিত বলে চীন মনে করে।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার ভোরে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর এলিট শাখা ‘ডেল্টা ফোর্স’ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযান চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কমান্ডোরা প্রেসিডেন্ট প্যালেসের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তাদের শয়নকক্ষ থেকে আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ মাদক কোকেন সরবরাহ এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছে এবং দেশটির একটি আদালতে তাদের বিচার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে শীতল যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর মাদুরো সরকারের প্রতি তার প্রশাসন আরও বেশি কঠোর ও আগ্রাসী মনোভাব গ্রহণ করে। চীনের বিবৃতিতে এই সামরিক অভিযানকে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় চীনের বিশাল বিনিয়োগ এবং তেলের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়ায় বেইজিং এবার নজিরবিহীনভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
চীন ছাড়াও এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এই ঘটনা এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। চীন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা মাদুরো সরকারের পতনের যেকোনো বহিঃশক্তির প্রচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর বিরুদ্ধে জনমত গঠন করবে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

