রাজধানীর গুলশানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসভবন এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি ও তৎপরতার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ রোববার সকালে গুলশান-২ এর ১৯৬ নম্বর সড়কের ওই বাসভবনের সামনে থেকে পুলিশ ও চেয়ারপারসনস সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) সদস্যদের সমন্বয়ে তাদের আটক করা হয়। বিকেলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে মো. রুহুল আমিন (৪৬) নামের এক ব্যক্তি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ওই ভবন এবং আশেপাশে থাকা যানবাহনের বিভিন্ন কোণ থেকে স্থিরচিত্র ধারণ করছিলেন। তার দীর্ঘক্ষণ অবস্থান এবং গোপনে ছবি তোলার বিষয়টি দায়িত্বরত সিএসএফ ও পুলিশ সদস্যদের নজরে এলে তারা তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় রুহুল আমিন ছবি তোলার কারণ সম্পর্কে অসংলগ্ন ও রহস্যজনক তথ্য প্রদান করেন। নিরাপত্তা কর্মীরা তার দেওয়া তথ্যে সন্তুষ্ট হতে না পেরে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেন। আটক রুহুল আমিনের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে একই বাসভবনের সামনে থেকে মো. ওমর ফারুক নামের আরও এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা ওমর ফারুকের গতিবিধিতে সন্দেহ পোষণ করলে তাকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার পকেট থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য হিসেবে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তবে ওমর ফারুকের বিস্তারিত পরিচয় কিংবা রুহুল আমিনের সাথে তার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ বাসভবনটির সামনে এমন চাঞ্চল্যকর আটকের ঘটনায় এলাকায় বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। গুলশান থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা ঠিক কী উদ্দেশ্যে ওই সংবেদনশীল এলাকায় গোপনে ছবি তুলছিলেন এবং তাদের সাথে কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বাসভবন এলাকায় নিরাপত্তার এমন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় দলটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা এবং ভিভিআইপিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ডেটা এবং অতীত রেকর্ড পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে বলে পুলিশ প্রশাসন থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

