ঢালিউড ও ছোট পর্দার শক্তিমান অভিনেত্রী রুনা খান। দীর্ঘ দুই দশকের অভিনয় জীবনে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। সমসাময়িক অনেক অভিনয়শিল্পী যখন গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে সংখ্যার বিচারে নিজেদের ব্যস্ততা প্রমাণে মগ্ন, রুনা খান তখন হাঁটছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার, জীবনদর্শন এবং কাজের নিজস্ব ধরণ নিয়ে অকপট কথা বলেছেন। সেখানে উঠে এসেছে তার ব্যক্তিজীবনের দৃঢ়তা এবং পেশাদারিত্বের এক সুশৃঙ্খল চিত্র।
রুনা খানের মতে, জীবন কোনো গন্তব্য নয় বরং একটি নিরন্তর ভ্রমণ। জীবনের প্রতিটি বাঁককে তিনি সহজভাবে গ্রহণ করতে পছন্দ করেন। নিজের স্বভাবজাত নমনীয়তা নিয়ে তিনি বলেন, “ব্যক্তি মানুষ হিসেবে আমি কোনো কিছুর প্রতিই কট্টর নই। আমি মনে করি জীবনের সবকিছুই আপেক্ষিক। যেকোনো নতুন উদ্যোগকে আমি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার চেষ্টা করি। প্রতিটি কাজেরই ভালো এবং মন্দ—উভয় দিক থাকে; কারো পছন্দ হবে, আবার কারো হবে না, এটাই পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়ম। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি যদি একটু সহজ হয়, তবে জীবন অনেক সুন্দর হয়ে ওঠে।”
একজন অভিনয়শিল্পীর ব্যস্ততা সাধারণত দিন-রাতের হিসেবে মাপা হলেও রুনা খানের ক্ষেত্রে চিত্রটি ব্যতিক্রম। তিনি জানান, গত ১৫ বছর ধরে তিনি একটি কঠোর স্ব-আরোপিত নিয়ম মেনে চলছেন। বর্তমান সময়ে যখন ওটিটি এবং স্যাটেলাইট চ্যানেলের ভিড়ে কাজের ধুম লেগেছে, তখনও তিনি মাসে পাঁচ দিনের বেশি শুটিং করেন না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তার কোনো আক্ষেপ নেই, বরং আছে গভীর তৃপ্তি। ২০০৯ সালে বৈবাহিক জীবনে প্রবেশের পর সন্তানের লালন-পালনের জন্য তিন বছরের বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। সেই বিরতি থেকে ফেরার পর থেকেই তিনি বছরে তিন থেকে চারটি মানসম্মত কাজের বাইরে আর কোনো প্রকল্পে নিজেকে যুক্ত করেননি।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তির কল্যাণে প্রচারণার হার বহুগুণ বেড়েছে। কাজের প্রচার ও সংখ্যা দিয়ে অনেক সময় সাফল্যের বিচার করা হলেও রুনা খান তার অবস্থানে অবিচল। তিনি মনে করেন, প্রচারণার জোয়ারে গা ভাসানোর চেয়ে নিজের শিল্পসত্তা এবং ব্যক্তিগত প্রশান্তি রক্ষা করা বেশি জরুরি। তিনি বলেন, “১০ বছর আগেও আমি বছরে মাত্র ৪-৫টি কাজ করতাম, এখনো সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি। সময়ের পরিবর্তন হলেও আমি আমার আদর্শিক জায়গাতেই স্থির আছি। আমার কাছে জীবন মানে সফলভাবে পথ চলতে পারাটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।”
উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে রুনা খানের অভিনয় শৈলী দর্শক ও সমালোচকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার প্রতিটি চরিত্রেই পরিপক্কতা এবং পরিশীলিত ভাব ফুটে ওঠে, যা কেবল দীর্ঘ সাধনা এবং কাজের প্রতি একনিষ্ঠতার মাধ্যমেই সম্ভব। কাজের সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানকে প্রাধান্য দিয়ে রুনা খান আজ বাংলা অভিনয় জগতে এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। পেশাদার জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, শিল্পচর্চায় স্থিরতা এবং ধৈর্যই দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

