জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী হলফনামায় উল্লিখিত সম্পদ ও আয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে দলটি। এনসিপির দাবি, নাহিদ ইসলামের ৩২ লক্ষ টাকার মোট সম্পত্তি এবং বাৎসরিক ১৬ লক্ষ টাকা আয় সংক্রান্ত তথ্যগুলো একদল কুচক্রী মহল ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দলের যুগ্ম সদস্য সচিব তামীম আহমেদ এক বিবৃতির মাধ্যমে এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেন।
এনসিপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাহিদ ইসলামের আয়ের প্রধান উৎস ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদের বেতন-ভাতা এবং পরবর্তীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ। গত অর্থ বছরে তিনি উপদেষ্টা হিসেবে সাত মাস দায়িত্ব পালনকালে মাসিক ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা হারে মোট ১১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৭৯ টাকা আয় করেন। সরকারের পদত্যাগের পর তিনি পেশাদার পরামর্শক (কনসালট্যান্ট) হিসেবে প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা সম্মানি গ্রহণ করেন। এই দুই উৎস মিলিয়ে তাঁর গত অর্থ বছরের মোট বাৎসরিক আয় ১৬ লক্ষ টাকা, যা তাঁর আয়কর রিটার্নে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি ২০২৪-২৫ আয়বর্ষে তিনি ১ লক্ষ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়করও পরিশোধ করেছেন।
হলফনামায় উল্লিখিত ৩২ লক্ষ ১৬ হাজার ১২২ টাকার মোট সম্পদের বিষয়ে তামীম আহমেদ জানান, এটি কেবল নগদ অর্থ নয়। এর মধ্যে তাঁর উপদেষ্টা ও পরামর্শক থাকাকালীন সঞ্চয়, বিয়ের উপহার হিসেবে প্রাপ্ত আর্থিক ও স্বর্ণালঙ্কারের বর্তমান বাজারমূল্য এবং হাতে থাকা নগদ অর্থের সমষ্টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এনসিপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাহিদ ইসলামের পেশা ‘শিক্ষকতা’ বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও একটি পরিকল্পিত অপতথ্য। হলফনামার ৪ নম্বর কলামে তাঁর বর্তমান পেশা ‘পরামর্শক’ এবং পূর্বতন পেশা হিসেবে ‘বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা’ পদটি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নাহিদ ইসলামের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় তাঁর সোনালী ব্যাংকের একমাত্র অ্যাকাউন্টে মাত্র ১০ হাজার ৬৯৮ টাকা ছিল, যা তিনি নিজেই জনসমক্ষে প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে সেই অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই অ্যাকাউন্ট এবং নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্প্রতি সিটি ব্যাংকে খোলা নতুন একটি অ্যাকাউন্ট ছাড়া নাহিদ ইসলামের আর কোনো ব্যাংক হিসাব নেই।
এনসিপি নেতৃবৃন্দ মনে করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাহিদ ইসলামের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি মহল তাঁর হলফনামার তথ্য বিকৃত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্ট বা সংবাদে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তরুণ নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে বলে দলটি দাবি করেছে।

