বাংলাদেশের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, বরেণ্য উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি এই মহীয়সী নেত্রীর প্রয়াণকে জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়ার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশ এক অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী অভিভাবককে হারাল।
আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর এই মহাপ্রয়াণের সংবাদে দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনে যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে হানিফ সংকেতের শোকবার্তায়।
তিনি তাঁর পোস্টে মরহুমার একটি ছবি সংযুক্ত করে লেখেন, “সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ৩০ ডিসেম্বর আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। তাঁর এই প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।”
হানিফ সংকেত তাঁর বার্তায় বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক জীবন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে তাঁর অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় বেগম জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক পুনর্গঠনে তাঁর সরকার যে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা দেশের মানুষ কৃতজ্ঞতার সাথে মনে রাখবে। হানিফ সংকেতের ভাষায়, “দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান কোনোদিন ম্লান হওয়ার নয়; তিনি ছিলেন গণমানুষের এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।”
শোকবার্তায় এই প্রথিতযশা নির্মাতা আরও লেখেন, “মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন প্রিয় নেত্রীকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সকল সদস্য ও তাঁর অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।” হানিফ সংকেতের এই বার্তা প্রকাশের পর তাঁর অনুসারী ও সাধারণ মানুষও সেখানে নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
উল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘ এক মাস ধরে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৪৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা এই নেত্রী ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল যেমন দীর্ঘ, তেমনি সংঘাত ও সংগ্রামের ইতিহাসে ভরপুর। জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে রাজপথের আপসহীন নেত্রী হয়ে ওঠা—তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
হানিফ সংকেত ছাড়াও দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক প্রকাশ অব্যাহত রেখেছেন। তাঁরা মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগের অবসান ঘটলেও বেগম জিয়ার আদর্শ ও ব্যক্তিত্ব এ দেশের সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে চির অম্লান হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির মধ্য দিয়ে সমগ্র দেশ আজ এই মহান নেত্রীর প্রতি তাদের শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে।

