বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক প্রদীপ্ত নক্ষত্র, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনই নয়, বরং গভীর শোক ও বিষাদ নেমে এসেছে শিল্প-সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতেও। আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই মহীয়সী নারীর জীবনাবসান ঘটে।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর এই বিদায়কে একটি গৌরবোজ্জ্বল যুগের অবসান হিসেবে দেখছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী, সংগীতজ্ঞ ও নির্মাতারা। সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো তারকাদের আবেগঘন বার্তা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ তারকাদের থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন ও তাঁর নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস তাঁর শোকবার্তায় উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিরবিদায় মহাকালের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে রইল।
তিনি মরহুমাকে একজন মহীয়সী নারী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, দেশের মানুষের হৃদয়ে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। একই সুরে চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছেন।
সংগীত জগতের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব, ‘নগরবাউল’ জেমস তাঁর ভেরিফায়েড পেজে বেগম জিয়ার একটি ছবি প্রকাশ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে সংগীত পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। জেমস তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। অন্যদিকে, চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ, আরিফিন শুভ এবং পূজা চেরি তাঁদের শোকবার্তায় বেগম জিয়ার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসের কথা স্মরণ করেছেন।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বেগম জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রশংসা করে লিখেছেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্ব ও জনসেবা দেশের ওপর যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে, তা অনস্বীকার্য। নির্মাতা আশফাক নিপুন বেগম জিয়াকে ধৈর্য ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিপুন তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, প্রতিপক্ষের অমানবিক আচরণের মুখেও বেগম জিয়ার হার না মানার মানসিকতা এই জাতি চিরকাল গর্বের সাথে মনে রাখবে।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা বেগম খালেদা জিয়ার জীবনকে দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, জেল-জুলুম ও নানা প্রতিকূলতা সহ্য করেও তিনি কখনো দেশ ছেড়ে যাননি, আর এই চারিত্রিক দৃঢ়তাই তাঁকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ এবং রেদওয়ান রনি তাঁদের শোকবার্তায় বলেছেন, বেগম জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। তাঁর আদর্শ ও নেতৃত্ব এ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে চিরকাল প্রভাবিত করবে।
এছাড়াও অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, নুসরাত ফারিয়া, আশনা হাবিব ভাবনা, পিয়া জান্নাতুল এবং অভিনেতা আরশ খানসহ আরও অনেকেই এই নেত্রীর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরবময় স্মৃতি স্মরণ করে দোয়া চেয়েছেন। বিনোদন জগতের প্রতিটি স্তরের মানুষ আজ যেন এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছেন দেশের এই জনপ্রিয় নেত্রীকে বিদায় জানাতে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা এই মহীয়সী নারী ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণ করে নারী নেতৃত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা বেগম জিয়া ১৯৬০ সালে সেনাপ্রধান ও পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
ফার্স্ট লেডি থেকে শুরু করে রাজপথের লড়াকু নেত্রী এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপ্রধান—বেগম খালেদা জিয়ার এই দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল পথচলা এ দেশের মানুষের কাছে এক অদম্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই নেত্রীর বিদায়ে শিল্পীরা তাঁদের হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

