আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার রাজনীতিতে এক বড় চমক সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-বারিধারা) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এ সময় ফরহাদ হালিম ডোনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম এবং দলের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক। এর আগে গতকাল রবিবার বিকেলে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
বিএনপি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তারেক রহমান এই নির্বাচনে মোট দুটি আসন থেকে লড়বেন। ঢাকা-১৭ আসনের পাশাপাশি তিনি তাঁর পৈতৃক এলাকা বগুড়া-৬ আসন থেকেও প্রার্থী হচ্ছেন। আজ দুপুরেই বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাঁর পক্ষে আরেকটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফিরে ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন তারেক রহমান এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অনুরোধে এই অভিজাত আসন থেকে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তারেক রহমানের এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের ফলে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। এই আসনে দীর্ঘকাল ধরে বিএনপির জোটসঙ্গী হিসেবে পরিচিত এবং ২০০৮ সালের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে তারেক রহমানের প্রার্থী হওয়ার খবর পাওয়ামাত্রই তাঁকে সম্মান জানিয়ে এই আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন পার্থ। তিনি এখন তাঁর বাবার স্মৃতিধন্য ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজই ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারেক রহমানের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর অংশগ্রহণে ঢাকা-১৭ আসনটি এখন সারা দেশের মানুষের নজর কেড়েছে।

