বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গন ও আইন অঙ্গনের পরিচিত মুখ পিয়া জান্নাতুল। র্যাম্প মডেলিং থেকে শুরু করে বড় পর্দা, এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবেও তিনি নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছেন বারবার। তবে এবার কোনো গ্ল্যামারাস ফটোশুট বা আইনি লড়াই নয়, বরং দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার রূঢ় ও অমানবিক বাস্তব চিত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন এই তারকা।
রোববার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে পিয়া দেশের নামিদামি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা ও রোগীদের প্রতি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার যন্ত্রণা এবং সেবার নামে রোগীদের পোহানো ভোগান্তি নিয়ে তিনি যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পিয়া জান্নাতুল তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “হাসপাতালে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে প্রচণ্ড ব্যথা, দুশ্চিন্তা আর ক্লান্তি নিয়ে। তবুও যেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। অথচ কেউ শখ করে হাসপাতালে আসে না; সবাই আসে নিরুপায় হয়ে, শুধুমাত্র নিজের স্বাস্থ্যের প্রয়োজনে।” তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করলেও দেশের তথাকথিত ‘সেরা’ বা অভিজাত হাসপাতালগুলোর দিকে আঙুল তুলেছেন। তার ভাষায়, “সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো, তথাকথিত ‘বেস্ট’ হাসপাতালগুলোতেও সময়ের কোনো মূল্য নেই। এত লোকবল, এত যান্ত্রিক সিস্টেম থাকার পরও সাধারণ রোগীদের এই অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না।”
এই অভিনেত্রী ও আইনজীবী মনে করেন, বাংলাদেশে চিকিৎসার পেছনে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করেও রোগীরা সঠিক সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা ও ন্যূনতম সম্মান পাচ্ছেন না। আর এই সম্মান ও মানবিক ব্যবহারের অভাবেই সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এই কারণেই যাদের সামর্থ্য আছে, তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চায়। তারা শুধু উন্নত চিকিৎসার জন্যই যায় না, বরং একটু সম্মান আর মানবিক ব্যবহারের প্রত্যাশায় যায়, যা আমাদের দেশে অত্যন্ত দুর্লভ।”
অসুস্থ মানুষের সময়ের গুরুত্ব কেন দেওয়া হয় না, সেই প্রশ্ন তুলে পিয়া আরও যোগ করেন, “একজন মানুষ রোগী বলেই কি তার সময়ের কোনো দাম নেই? আমাদের হাসপাতালগুলোর একটু মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারতো।”
উল্লেখ্য, পিয়া জান্নাতুল কেবল শোবিজে সীমাবদ্ধ নন, তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন নিয়মিত আইনজীবী। পেশাগত জীবনে তিনি হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আলোচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। সমসাময়িক নানা বিষয়ে পিয়ার এমন স্পষ্টবাদী অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ভক্তদের মতে, পিয়ার মতো প্রভাবশালী তারকারা এভাবে সোচ্চার হলে হয়তো দেশের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে নীতিনির্ধারকদের টনক নড়বে।

