শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তারেক রহমান ও জাইমা রহমান ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত গুলশান এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয়, তারা গুলশানের একটি স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করেছিলেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং বায়োমেট্রিক পদ্ধতি (আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ) সম্পন্ন করার মাধ্যমে তাদের এই নাগরিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাল।
ইসি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তারেক রহমান ও জাইমা রহমানের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসা (বাসা নম্বর এন ই-ডি৩/বি, পোস্ট কোড ১২১২) উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ১৫ নম্বর সড়কের একটি বাসার তথ্য দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির এই প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের পাশাপাশি তার কন্যা জাইমা রহমানের উপস্থিতিও ছিল সরব।
২০০৮ সালে বিদেশে যাওয়ার পর থেকে তারেক রহমানের নাম দেশের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। দীর্ঘ সময় পর গত ২৫ ডিসেম্বর ট্রাভেল পাসে দেশে ফেরার পর এটিই তার প্রথম কোনো দাপ্তরিক নাগরিক কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত আইন ও নিয়ম মেনেই এই নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এনআইডি মহাপরিচালক জানিয়েছেন, বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই শেষে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর জেনারেট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান চলতি বছরের জুন মাসেই গুলশান অ্যাভিনিউয়ের অপর একটি ঠিকানায় (বাসা নম্বর ১৯৬) ভোটার হয়েছিলেন। আজ তারেক রহমান ও জাইমা রহমানও একই নির্বাচনী এলাকার ভোটার হলেন। এর ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে যে প্রাথমিক আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল, তার বড় একটি ধাপ সম্পন্ন হলো।
তারেক রহমানের গুলশানের ভোটার হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও তার পৈতৃক এলাকা বগুড়ায় তার বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে, তবে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভোটার হওয়া তার ভবিষ্যতের নির্বাচনী কৌশলের অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শনিবার দুপুর ১টার দিকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) পৌঁছালে তারেক রহমানকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বনানীতে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন।
দীর্ঘ নির্বাসন পরবর্তী এই নাগরিক সফরকে দেশের রাজনীতিতে বিএনপির পূর্ণশক্তিতে ফিরে আসার একটি প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামীকাল (রোববার) একটি বিশেষ বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে রেজোলিউশনে নেওয়া হতে পারে। এর ফলে এখন থেকে তারেক রহমান ও জাইমা রহমান ভোটার হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সব সুযোগ-সুবিধা ও নাগরিক অধিকারে অন্তর্ভুক্ত হলেন।

