দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর এক আবেগঘন মুহূর্তে নিজের ছোট ভাই, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সমাধি জিয়ারত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে গিয়ে তিনি এই শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ ১০ বছর পর ভাইয়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর এই প্রার্থনা এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
এদিন সকাল থেকেই তারেক রহমানের কর্মসূচি ছিল বেশ ব্যস্ততাপূর্ণ। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ও জাতীয় কবির সমাধি জিয়ারত শেষে তিনি সরাসরি আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে যান। সেখানে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডিজিটাল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরপরই তিনি বনানী কবরস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি বনানীতে পৌঁছান।
বনানী কবরস্থানে পৌঁছে তারেক রহমান সরাসরি আরাফাত রহমান কোকোর কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। সেখানে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় সুরা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতের সময় তারেক রহমান বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁর সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহাসিকভাবে দিনটি তারেক রহমানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরাফাত রহমান কোকো ইন্তেকাল করেন। সে সময় রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতি ও নির্বাসনে থাকায় তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভাইয়ের জানাজায় শরিক হতে পারেননি। আজ দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো সশরীরে ভাইয়ের কবরের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেন তিনি।
বনানী কবরস্থানে জিয়ারত শেষে তারেক রহমানের গাড়ি বহর ধানমন্ডির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সেখানে তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়ি ‘মাহবুব ভবনে’ কিছু সময় অতিবাহিত করবেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তারেক রহমানের আজকের এই প্রতিটি পদক্ষেপ—শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভোটার হওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের স্মৃতি তর্পণ—সবকিছুই তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বনানী এলাকায় তাঁর আগমনের খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমিয়ে তাঁদের নেতাকে অভিবাদন জানান।

