ইসলামের পবিত্রতম স্থান মক্কার মসজিদুল হারামে এক ব্যক্তির আত্মহত্যার চেষ্টা নজিরবিহীন সাহসিকতায় রুখে দিয়েছেন সৌদি আরবের এক নিরাপত্তারক্ষী। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওপর থেকে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিকে লুফে নিয়ে জীবন বাঁচানোর এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন নিরাপত্তারক্ষী রায়ান বিন সাঈদ বিন ইয়াহিয়া আল-আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার কাবার পবিত্র চত্বরে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রায়ান বিন সাঈদ কাবার নিচতলায় সাধারণ ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। হঠাৎ ওপরের তলা থেকে এক ব্যক্তি নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা রায়ান বিষয়টি দ্রুত আঁচ করতে পারেন এবং পালানোর পরিবর্তে দুই হাত বাড়িয়ে ওপর থেকে ধেয়ে আসা ওই ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা করেন। ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তির শরীরের ভার এবং পতনের তীব্রতায় রায়ান নিজেও গুরুতর আহত হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তবে তাঁর এই উপস্থিত বুদ্ধি ও তাৎক্ষণিক বাধার কারণে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিটি সরাসরি শক্ত মেঝেতে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পান।
ঘটনার পরপরই নিরাপত্তারক্ষী রায়ান এবং ওই ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে মক্কার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রায়ানের এই বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি দিতে গতকাল শুক্রবার হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সউদ বিন নাঈফ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহত রায়ানের শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং তাঁর সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন রক্ষায় রায়ানের এই ত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ওপর থেকে এক ব্যক্তি যখন প্রবল বেগে নিচে পড়ছিলেন, ঠিক তখনই রায়ান নিজেকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁকে ধরার চেষ্টা করেন। ভিডিওটি দেখার পর সাধারণ মানুষ রায়ানকে ‘মানবতার নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করছেন। নেটিজেনদের মতে, যদি রায়ান তাঁর হাত দিয়ে ওই ব্যক্তির পতনের গতি না থামাতেন, তবে নিশ্চিতভাবেই সেখানে তাঁর মৃত্যু হতো।
তবে ওই ব্যক্তির বর্তমান শারীরিক অবস্থা কিংবা তিনি কোন দেশের নাগরিক, সে সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পবিত্র কাবার মতো স্থানে আত্মহত্যার চেষ্টার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পবিত্র কাবা শরীফ মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে সংরক্ষিত ও পবিত্র স্থান হওয়ার কারণে এখানে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করে থাকে। তা সত্ত্বেও অতীতেও কিছু বিচ্ছিন্ন আত্মহত্যার ঘটনা বা চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ২০১৭ সালে এক সৌদি নাগরিক নিজের গায়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে। ২০১৮ সালেও কাবা চত্বরে কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল এবং ২০২৪ সালেও এক ব্যক্তি ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ হারান।
রায়ানের এই সাহসী পদক্ষেপ আবারও প্রমাণ করেছে যে, পবিত্র হারাইমাইন শরিফাইনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীরা কেবল আইনশৃঙ্খলাই রক্ষা করেন না, বরং মানুষের জীবন রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত থাকেন।

