আজ ২৭ ডিসেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিশালী অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর জীবনে এক বিষাদময় স্মৃতির দিন। আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগে এই দিনে তিনি তাঁর পরম আশ্রয়, বাবা রাধা গোবিন্দ চৌধুরীকে হারিয়েছিলেন। বাবার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা ও ছবির মাধ্যমে নিজের অন্তহীন শূন্যতা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা।
শনিবার সকালে ফেসবুকে বাবার একটি সাদাকালো ছবি শেয়ার করে চঞ্চল চৌধুরী লিখেছেন, “বাবা… তিন বছর হয়ে গেলো… তুমি আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছো অনন্তলোকে। তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করে খুব!!! ছুঁতে ইচ্ছে করে….কিন্তু পারিনা, আর পারবোও না কোনদিন!! ভালো থেকো বাবা।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর বার্তায় ফুটে উঠেছে পিতৃহারা এক সন্তানের চিরন্তন হাহাকার, যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের স্পর্শ করেছে।
২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাধা গোবিন্দ চৌধুরী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বার্ধক্যজনিত নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ ছিলেন।
মৃত্যুর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেইন হেমোরেজ) হলে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি পরলোকে পাড়ি জমান।
চঞ্চল চৌধুরীর বাবা রাধা গোবিন্দ চৌধুরী কেবল একজন অভিভাবকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন পাবনার সুজানগর এলাকার একজন নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শ শিক্ষক। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ‘দুলাল মাস্টার’ হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ছেলের আকাশচুম্বী সাফল্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে গর্বিত অনুরাগী। চঞ্চল চৌধুরীকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি সংবাদ তিনি সযত্নে কেটে নিজের ঘরের দেয়ালে লাগিয়ে রাখতেন। ছেলের প্রতিটি অর্জনই ছিল তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ সার্থকতা।
বাবার মৃত্যুর পরদিন পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাটে পারিবারিক শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল। বাবার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে চঞ্চল চৌধুরীর এই স্মৃতিচারণ ভক্ত ও অনুরাগী মহলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই মন্তব্য করে প্রয়াত রাধা গোবিন্দ চৌধুরীর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং অভিনেতার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
পিতৃস্মৃতিতে আবেগপ্রবণ চঞ্চল চৌধুরী সবসময়ই বলে এসেছেন, তাঁর আজকের এই সাফল্যের পেছনে বাবার আদর্শ ও শিক্ষকসুলভ শৃঙ্খলার বড় অবদান রয়েছে। বাবার চলে যাওয়া তাঁর জীবনে এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে, যা হয়তো কোনো অর্জন দিয়েই পূরণ হওয়ার নয়।

