দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা জানাতে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) যাওয়ার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হাসপাতালটিতে বর্তমানে জুলাই বিপ্লবে আহত কোনো রোগী চিকিৎসাধীন না থাকায় দলীয়ভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহতদের অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন অথবা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন। বর্তমানে পঙ্গু হাসপাতালে আন্দোলনের কোনো আহত যোদ্ধা ভর্তি না থাকায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই সংবেদনশীল সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাঁদের পুনর্বাসনে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষিত সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে, শনিবার দিনের শুরুতে তারেক রহমান এক আবেগঘন পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রসেনানী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বেলা ১১টা ১৬ মিনিটে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছান এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শায়িত শহীদ হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় তাঁর সাথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূচি অনুযায়ী, পঙ্গু হাসপাতালের কর্মসূচি বাতিল হওয়ার পর তারেক রহমান আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। মূলত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটার অধিকার পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই তিনি ইসিতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার পর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় ভোটার তালিকার বাইরে ছিলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা রয়েছে, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই তারেক রহমান অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পূর্বাচলে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা সভায় ভাষণ দেওয়ার পর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। আজকের ইসি সফর শেষে তিনি ধানমন্ডিতে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যাবেন এবং সন্ধ্যায় পুনরায় অসুস্থ মাকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তা দেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আহতদের বিষয়ে তাঁর এই সতর্ক পদক্ষেপ দলটির আগামী দিনের রাজনীতির একটি ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

