বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসরে নিলামের টেবিল ওলটপালট করে দিয়ে সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড গড়েছিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বিশাল অংকে চট্টগ্রাম রয়্যালসে নাম লেখানো এই বাঁহাতি ওপেনারকে নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী।
তবে মাঠের লড়াইয়ের প্রথম দিনেই নিজের সামর্থ্য ও মূল্যের প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হলেন এই ব্যাটার। উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১১ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে বিপিএলের এই আসরের একমাত্র ‘কোটিপতি’ ক্রিকেটারকে।
শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ চট্টগ্রামের হয়ে ইনিংসের সূচনা করতে মির্জা বেগের সঙ্গে মাঠে নামেন নাঈম। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সিঙ্গেল নিয়ে ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলেন তিনি। শুরুর দিকে কিছুটা সাবধানী মনে হলেও নবম বলে একটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি মেরে নিজের উপস্থিতির জানান দিয়েছিলেন।
গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে, হয়তো আজই বড় কোনো ইনিংস দেখতে পাবেন তাঁরা। কিন্তু সেই আশা স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে দলীয় ২৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১১ বলে ১১ রান করে উইকেট হারান তিনি। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত ইনিংসে ছিল মাত্র দুটি চারের মার। ১ কোটি ১০ লাখ টাকার একজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে দলের যে বিধ্বংসী সূচনা পাওয়ার কথা ছিল, তা এদিন একেবারেই অনুপস্থিত ছিল।
বিপিএলের এবারের নিলামে নাঈম শেখকে নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে ব্যাপক কাড়াকাড়ি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ৫০ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্য নিয়ে নিলামে আসা এই ওপেনারের প্রতি শুরুতেই আগ্রহ প্রকাশ করে সিলেট টাইটান্স। পরবর্তীতে নোয়াখালী, রংপুর রাইডার্স এবং চট্টগ্রাম রয়্যালসের মধ্যে শুরু হয় দর কষাকষির তীব্র লড়াই।
দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে শেষ হাসি হাসে চট্টগ্রাম রয়্যালস, যারা তাকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় নিজেদের ডেরায় ভেড়ায়। নিলামের শুরুতেই একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে কোটি টাকার ঘর ছোঁয়া নাঈমকে নিয়ে চট্টগ্রামের পরিকল্পনা ছিল দীর্ঘমেয়াদী এবং প্রভাবশালী।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চমূল্যের চাপ অনেক সময় বড় ক্রিকেটারদের স্বাভাবিক খেলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নাঈমের ক্ষেত্রেও প্রথম ম্যাচে তেমনটি ঘটেছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের ওপেনিং জুটিতে বড় পার্টনারশিপ গড়ার যে দায়িত্ব নাঈমের কাঁধে ছিল, তা প্রথম দিনেই হোঁচট খেল।
তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন একটি ব্যর্থতা দিয়ে তাকে বিচার করা কঠিন। চট্টগ্রামের টিম ম্যানেজমেন্ট আশা করছে, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নাঈম তাঁর নামের প্রতি সুবিচার করবেন এবং ব্যাটে রানের তুবড়ি ছুটিয়ে সমালোচকদের জবাব দেবেন।
উদ্বোধনী ম্যাচে নাঈমের এমন নিষ্প্রভ বিদায় সমর্থকদের কিছুটা হতাশ করলেও বিপিএলের উত্তাপ মাত্র শুরু হয়েছে। ১ কোটি ১০ লাখ টাকার এই বিনিয়োগ চট্টগ্রামের জন্য কতটা লাভজনক হবে, তা দেখার জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন ক্রিকেট অনুরাগীরা। নাঈম শেখ কি পারবেন তাঁর উচ্চমূল্যের গ্লানি মুছে আবারও মাঠ কাঁপানো কোনো ইনিংস উপহার দিতে? উত্তর মিলবে বিপিএলের আসন্ন দ্বৈরথগুলোতে।

