বর্তমান সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন পর্দার অভিনয়ের পাশাপাশি সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুতে সবসময়ই সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করেছেন তিনি।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় বাঁধন জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে তারেক রহমানের ফিরে আসা তাঁর মনে নতুন এক আশার আলো প্রজ্বলিত করেছে। এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাকে নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক নেতৃত্বের সংকেত পাচ্ছেন বলে দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে বাঁধন অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় দেশের বিগত সময়ের কঠিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, বাংলাদেশ দীর্ঘকাল শোক, অবিচার এবং এক ধরণের গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, যা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মতো তিনিও গভীরভাবে অনুভব করেছেন।
এই দুঃসময়ের মাঝে তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে তিনি ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আচরণের প্রশংসা করে বাঁধন জানান, তাঁর কথাবার্তায় যে অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব ফুটে উঠেছে, তা বর্তমান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বাঁধনের লেখায় তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জীবনবোধ ও সৌজন্যবোধের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান তাঁর স্ত্রী ও কন্যার প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং জনসম্মুখে নিজের জন্য নির্ধারিত বিশেষ আসনে না বসে একটি সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন, তা তাঁকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
এমনকি তাঁদের পোষা বিড়ালের প্রতি পরিবারের সদস্যদের স্নেহপূর্ণ আচরণের বিষয়টিও তাঁর নজর এড়ায়নি। বাঁধন মনে করেন, এই ছোট ছোট আচরণগুলো নেতৃত্বের এক গভীর বার্তা বহন করে—আর তা হলো সহমর্মিতা ও সেবার মানসিকতা যা মূলত পরিবার থেকেই শুরু হয়। তাঁর মতে, রাজনীতিতে এ ধরনের শিষ্টাচার ও মানবিকতা অত্যন্ত অর্থবহ এবং বাংলাদেশের মানুষ এমন নেতৃত্বই প্রত্যাশা করে যারা শাসনের পরিবর্তে সেবার মানসিকতা নিয়ে দেশ পরিচালনা করবেন।
অভিনয় জীবনের ব্যস্ততা ও সাম্প্রতিক অর্জনের বিষয়েও এই পোস্টে আলোকপাত করেন বাঁধন। তিনি জানান, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের অভাবনীয় সাফল্যের পর তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্তমানে তাঁর অভিনীত একটি নতুন চলচ্চিত্র মর্যাদাপূর্ণ ‘রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে’ প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে এবং আরও একটি বড় প্রজেক্ট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে সাফল্যের এই চূড়ায় আরোহণ করলেও সহকর্মীদের একাংশের আচরণে তিনি ব্যথিত। নাম প্রকাশ না করে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, শিল্পীদের মধ্যে উন্নতির চেয়ে ঈর্ষা, চরিত্রহনন এবং অবমাননার যে নেতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা সৃজনশীল সমাজকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
পরিশেষে বাঁধন আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও একটি ইতিবাচক ও সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসবে। তিনি বিশ্বাস করেন, তারেক রহমানের মতো নেতৃত্ব কেবল রাষ্ট্র পরিচালনাতেই নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের এই ঘরে ফেরা এবং বাঁধনের মতো শিল্পীদের এই অকপট সমর্থন দেশের শোবিজ জগত এবং রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

