বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার দুপুরে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক পদচারণা দেশের রুদ্ধ দুয়ার খুলে দিয়েছে এবং তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একটি সুসংহত গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার দিকে এগিয়ে যাবে। গতকালের রাজসিক প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশবাসী যে অভূতপূর্ব বার্তা দিয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের ফিরে আসা কেবল একটি ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের এক নতুন সূচনা। ২০০৬ সালের পরবর্তী দীর্ঘ ও বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে আজকের এই ২৫শে ডিসেম্বর ২০২৫-এ যখন তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রেখেছেন, তখন সমগ্র বাংলাদেশ তাকে এক রাজকীয় ও নজিরবিহীন সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নিয়েছে। ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব গণমাধ্যম এবং দেশের সাধারণ মানুষ আজ তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে দেখছে। তার এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করেছে যে, জনগণের ভালোবাসা ও রাজনৈতিক আদর্শকে কোনোভাবেই অবদমিত করা সম্ভব নয়।
জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে যখন হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রিয় নেতাকে দেখার অপেক্ষায় উদ্বেলিত, তখন মির্জা ফখরুল তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষ আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত কারণ তারা তাদের প্রাণের নেতাকে কাছে পেয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে তারেক রহমান আজ তার পিতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসছেন। এটি একটি আবেগঘন মুহূর্ত যা জাতীয় ঐক্যের পথকে প্রশস্ত করবে। ফখরুল আরও যোগ করেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো নেতার এমন স্বতঃস্ফূর্ত এবং গণমুখী প্রত্যাবর্তন বিরল। এটি কেবল রাজনৈতিক সুবাতাস নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক আকাশে জমে থাকা দীর্ঘদিনের অমানিশা দূর করার প্রথম পদক্ষেপ।
মহাসচিবের মতে, তারেক রহমানের আগমনে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক ধোঁয়াশা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক জটিলতা কাটাতে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে যেখানে প্রতিটি নাগরিকের ভোটের অধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকবে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে থেকেও তিনি যেভাবে দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন, তার প্রতিফলন আজ মাজার প্রাঙ্গণের এই জনসমুদ্রে স্পষ্ট। নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস, তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় দলের অভ্যন্তরীণ শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দেশ এক শক্তিশালী কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে বৈশ্বিক মডেলে পরিণত হবে।
সকাল থেকেই শেরেবাংলা নগর এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড় এবং সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতি এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত দলীয় কর্মীরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন। মির্জা ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের এই উপস্থিতি দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে, যারা একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে অতি দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
পরিশেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, জনগণের এই সমর্থনই প্রমান করে যে তারা পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে। তারেক রহমান কেবল বিএনপির নেতা নন, তিনি আজ নিপীড়িত মানুষের আশার আলো। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে, যেখানে গণতন্ত্রের জয়গান হবে প্রতিটি মানুষের মূল শক্তি। আজ বিকেলের শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই নতুন যাত্রার পথচলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

