দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশের মাটিতে পা রেখেই মহান আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে মোনাজাত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচল সংলগ্ন ৩০০ ফিট সড়কে (জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে) আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা সমাবেশে তিনি দেশবাসীর সমৃদ্ধি এবং একটি নিরাপদ ও ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ গড়তে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত ও সাহায্য কামনা করেন।
বিকেল ৪টার দিকে যখন তিনি জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে আবেগঘন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী তাঁর সাথে মোনাজাতে শরিক হন। তারেক রহমান অত্যন্ত বিনয় ও ভক্তির সাথে বলেন, “আসুন, আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি— হে রাব্বুল আলামিন, আপনিই একমাত্র মালিক, একমাত্র রহমত দানকারী এবং একমাত্র সাহায্যকারী। আপনি যদি আজ আমাদের রহমত দেন, তবে এ দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারবে।”
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, “যদি আল্লাহর রহমত, তাঁর সাহায্য ও দয়া এ দেশের মানুষের ওপর থাকে, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবেন, তারা যেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রধান প্রার্থনা ও আহ্বান: প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী রাষ্ট্র গঠনের জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা। শান্তি ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব: তিনি পরপর তিনবার বলেন, “আমরা দেশে শান্তি চাই।” যেকোনো উসকানির মুখে নেতাকর্মীদের ধীর-শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা: ১৯৭১-এর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শহীদদের (যেমন ওসমান হাদি) রক্তের ঋণ শোধ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শপথ। নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা: এমন এক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি যেখানে প্রতিটি মা তাঁর সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং ২০ দলীয় জোট ও সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ভাষণ শেষে তারেক রহমান উপস্থিত জাতীয় নেতাদের নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন। এই মোনাজাতের সময় ৩০০ ফিট এলাকা এক পিনপতন নীরবতা ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে রূপ নেয়।
গণসংবর্ধনা শেষে তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি দীর্ঘ সময় মায়ের শয্যাপাশে অবস্থান করেন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য পুনরায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

