দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে স্বদেশের মাটিতে পা রেখেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে (জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে) আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর জন্য মঞ্চে রাখা হয়েছিল একটি কারুকার্যখচিত ‘বিশেষ আলিশান’ চেয়ার।
কিন্তু মঞ্চে আরোহণ করার পর তিনি সেই রাজকীয় আসনটি সরিয়ে দিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মতো একটি কাঠের (কোনো কোনো গণমাধ্যমের মতে প্লাস্টিকের) সাধারণ চেয়ার টেনে নিয়ে তাতে বসেন। তাঁর এই সাধারণ জীবনযাপন ও বিনয় উপস্থিত লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে মুগ্ধ করে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে তিনি যখন সংবর্ধনা মঞ্চে ওঠেন, তখন উপস্থিত জনতা তাঁকে আকাশছোঁয়া স্লোগানে বরণ করে নেয়। মঞ্চে ওঠার পরই তিনি নির্ধারিত বিশেষ আসনটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং আয়োজকদের কাছ থেকে একটি সাধারণ চেয়ার চেয়ে নেন। এরপর ৩টা ৫৭ মিনিটে তিনি তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ শুরু করেন।
ভাষণের শুরুতেই তারেক রহমান আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “প্রিয় বাংলাদেশ।” এরপর মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবানীতে ও আপনাদের দোয়ায় আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি।”
তারেক রহমানের ভাষণের বিশেষ কিছু দিক: নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন: তিনি এমন এক বাংলাদেশের কথা বলেন, যা একজন মা দেখেন। যেখানে নারী, পুরুষ বা শিশু—যেই হোক না কেন, ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে আবার ফিরে আসতে পারে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা: তিনি ২৪-এর আন্দোলনের শহীদ ওসমান হাদিসহ ৭১-এর সকল শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা: মার্টিন লুথার কিং-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি তাঁর ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর কথা ঘোষণা করেন, যা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নিবেদিত।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা মঞ্চে তারেক রহমান নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যান্য নেতাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
ভাষণ শেষ করে তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে তিনি তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দীর্ঘ সময় কাটান। দীর্ঘ দেড় যুগের ব্যবধানে মা ও ছেলের এই পুনর্মিলন এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

