দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন ও ৬ হাজার ৩১৪ দিনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জননী বেগম খালেদা জিয়ার সান্নিধ্যে পৌঁছেছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রবেশ করেন। প্রিয় জন্মভূমিতে ফেরার পর এটিই ছিল মা ও ছেলের প্রথম ঐতিহাসিক ও আবেগঘন পুনর্মিলন।
হাসপাতালে পৌঁছানোর দৃশ্যটি ছিল অভূতপূর্ব। তারেক রহমানকে বহনকারী লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বাসটি যখন হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছায়, তখন সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এক বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বাস থেকে নেমে তিনি উপস্থিত দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে হেঁটে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর পরনে ছিল সাদা রঙের পাঞ্জাবি ও পায়জামা। হাসপাতালের গেটে প্রবেশের আগে তিনি থেমে থেমে কয়েকবার জনতাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
তারেক রহমান হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগেই তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান সেখানে পৌঁছান। তাঁরা বিকেলে গুলশানের বাসভবন থেকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। দীর্ঘ দেড় যুগ পর আজ রাতেই একই ছাদের নিচে মিলিত হলেন জিয়া পরিবারের সদস্যরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান তাঁর মায়ের কেবিনে প্রবেশ করে দীর্ঘক্ষণ আবেগাপ্লুত ছিলেন। তিনি মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর মায়ের কপালে হাত রেখে দোয়া নেন। এ সময় সেখানে এক পিনপতন নীরবতা ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর আগে ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া তাঁর ভাষণে মায়ের প্রতি তাঁর এই আকুলতা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু আপনারা যারা তাঁর জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন—আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাতেই আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।” তিনি দেশবাসীর কাছে তাঁর মায়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে এভারকেয়ার হাসপাতাল ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের সামনের সড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হয়। যদিও দলের পক্ষ থেকে হাসপাতাল এলাকায় স্লোগান দিতে নিষেধ করা হয়েছিল, তবুও প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে আসা কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
তারেক রহমান বর্তমানে হাসপাতালের ভেতর বেগম খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে অবস্থান করছেন। সেখানে চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গেও তাঁর কথা বলার কথা রয়েছে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি গুলশানের বাসভবনে ফিরবেন বলে জানা গেছে। আজ ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন এবং মায়ের সাথে তাঁর এই পুনর্মিলন একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে।

