দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বীরের বেশে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজকীয় এই প্রত্যাবর্তনের দিনে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা সমাবেশে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক নতুন স্লোগান দিয়েছেন— “সবাই মিলে করব কাজ, গড়ব মোদের বাংলাদেশ।” বিকেল ৪টার দিকে যখন তিনি জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে এই বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন পুরো এলাকা স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, “আজ সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, তেমনি সমতলের মানুষও আছে। আমাদের যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।” তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, যে কোনো উসকানির মুখে সবাইকে ধৈর্যশীল হতে হবে। বিশৃঙ্খলা পরিহার করে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করাই এখন সময়ের দাবি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান তাঁর মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যে মানুষগুলোর জন্য আমার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষগুলোকে ছেড়ে আমি কোথাও যেতে পারি না।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। শিশু, নারী কিংবা পুরুষ—যেকোনো বয়স বা ধর্মের মানুষ যেন এই দেশে নিরাপদ থাকে, এটাই তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মাতৃভূমির মাটিতে পা রেখে তারেক রহমান প্রথমেই মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় আজ আমি প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি।” তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত দীর্ঘ পথে মানুষের যে উপচে পড়া ভিড় ছিল, তা এক অনন্য ঐতিহাসিক মুহূর্তের সৃষ্টি করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারেক রহমান। সেখানে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতি শেষে তিনি বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সরাসরি ৩০০ ফিট সংবর্ধনাস্থলে যোগ দেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে যান। দীর্ঘ বছর পর মা ও ছেলের এই পুনর্মিলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আবেগ ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। আজকের এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান তাঁর আগামীর রাজনীতির মূলমন্ত্র হিসেবে ‘ঐক্য ও শান্তি’র বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।

